প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ইতিহাসে দায়িত্ব পালন করা বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের দক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও পেশাদার আচরণের কারণে নগরবাসীর কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রুহুল আমিন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করা কমিশনার আশিক সাঈদের কর্মপদ্ধতিতে কিছুটা মিল ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই কমিশনারের দায়িত্বকালে একদিকে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের প্রতি মানবিক আচরণ ও কল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান—দুটিই লক্ষ্য করা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা কঠোর ছিলেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গেও তাঁদের পেশাদার সম্পর্ক ছিল বলে জানান বরিশালের একাধিক সংবাদকর্মী। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সরাসরি কারও কথায় প্রভাবিত না হয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ছিল বলে তাঁদের দাবি।
তবে এসব কর্মকর্তার বিদায়ের পর বরিশালের গণমাধ্যম অঙ্গনে সাংবাদিকদের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন কোনো পুলিশ কমিশনার বরিশালে দায়িত্ব গ্রহণ করলেই একটি সুবিধাভোগী মহল নিজেদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নামে। নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করে এবং এর মাধ্যমে গণমাধ্যম অঙ্গনে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হচ্ছে, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য জীবিত সাংবাদিকদের পাশাপাশি মৃত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো মৃত সাংবাদিকের নামেও মাদকসেবন কিংবা মাদক সংশ্লিষ্টতার মতো গুরুতর অভিযোগ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন অভিযোগ তোলা শুধু ওই ব্যক্তির পরিবারের জন্যই অপমানজনক নয়, এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
বরিশালের গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, একটি সুবিধাভোগী সাংবাদিক গোষ্ঠীর প্রধান মনোযোগ এখন পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবর্তে প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায়ের দিকে। এমনকি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি বা অন্যান্য ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়ে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সুবিধাভোগী এই মহলের অবস্থানে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গঠনমূলক সমালোচনা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কিংবা দুর্নীতি-অনিয়মের নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের পরিবর্তে একটি অংশ প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে বরিশালের গণমাধ্যমে বর্তমানে একদল তরুণ, মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত সংবাদকর্মী কাজ করছেন। অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধার প্রত্যাশা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে জনস্বার্থের সংবাদ সংগ্রহ করছেন। তাঁদের কাছে সাংবাদিকতা এখনো মানুষের কথা বলার এবং সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তবে তরুণ সাংবাদিকদের একটি অংশের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠিত কিছু সাংবাদিক নেতা তাঁদের পেশাগত বিকাশে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। তরুণরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারলে দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা ভোগ করে আসা একটি মহলের প্রভাব কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হতে পারে না। একইভাবে কারও বিরুদ্ধে মাদক, দুর্নীতি বা অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ করা উচিত। বিশেষ করে প্রয়াত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ছড়ানোর আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
বরিশালের সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ মনে করছে, ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রশাসনিক সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে বস্তুনিষ্ঠ, অনুসন্ধানী ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নামে অপপ্রচার, চরিত্রহনন ও প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি বন্ধ করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন