প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজায় শান্তি এবং নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন করার লক্ষ্যে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো একটি যৌথ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যার আওতায় তারা তাদের অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে টেকসই শান্তির পথে একটি ‘স্মরণীয় অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে আসা চুক্তির অনুলিপি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক তদারকি পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণের সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে হবে, যাহা সময়সীমা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো যেতে পারে।
হামাসের প্রতিনিধিদলের সদস্য গাজী হামাদ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, এই আলোচনা অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল ছিল। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন যাতে ফিলিস্তিনিদের জন্য সম্ভাব্য সেরা শর্ত নিশ্চিত হয়। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যদি চুক্তির শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে হামাসও চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না। তিনি আরো জানান, অস্ত্র সংবরণের সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত উপত্যকাটির পুনর্নির্মাণ কাজের অগ্রগতির ওপর। জানা গেছে, এই চুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের এবং নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর সাফল্য হিসেবে এই চুক্তিকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প একটি বার্তায় লিখেছেন, এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে গাজা অবশেষে একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এটি জনগণের কল্যাণে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একইসঙ্গে, ইসরায়েলও কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পাবে এবং গাজাকে আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, অস্ত্র সমর্পণ হলে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা ছেড়ে যাবে এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী, যা একটি ‘নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী’-র সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে।
আল জাজিরার প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, গাজায় একটি জাতীয় কমিটি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীর প্রবেশের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর জাতীয় কমিটি অস্ত্রগুলোর তালিকা তৈরি এবং তা সংরক্ষণ কাজ করবে, যেখানে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর অংশগ্রহণ থাকবে এবং আন্তর্জাতিক তদারকি কমিটি পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো অস্ত্রই ইসরায়েল বা কোনো অ-ফিলিস্তিনি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া যাবে না; কেবল জাতীয় কমিটিই এই অস্ত্রের একক রক্ষক হবে।
‘বোর্ড অব পিস’-এর একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, প্রথম দফায় পুলিশের কাছে থাকা সাধারণ অস্ত্র এবং পরবর্তীতে ভারী অস্ত্রগুলো হস্তান্তর করা হবে। এর ফলে গাজায় সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে, তবে পুরো বিষয়টি বাস্তবে রূপ নিতে কিছুটা সময় লাগবে।
এদিকে, গত অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধে ট্রাম্প যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যস্থতা করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে এই সংবরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরেও ইসরায়েল একের পর এক তা লঙ্ঘন করে চলেছে, যার ফলে দুই শিশুসহ আরও ১,২০০-র বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি হামলায় ৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কায়রোতে গত সপ্তাহের শেষ থেকে ফিলিস্তিনি নেতারা আলোচনা চালাচ্ছেন। খুব শিগগিরই কায়রোতে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার আয়োজন করা হবে। ফিলিস্তিনের অন্য একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ চুক্তির খসড়া নিয়ে কিছু আপত্তি প্রকাশ করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাস আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে এই প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ দুই দশক পর গাজায় একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর পথ সুগম হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন