প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কম্বোডিয়ায় একটি মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মো. রুবেলকে (২৯) চাকরির উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ভুক্তভোগী ওই নারীর অর্থ ও পাসপোর্ট আত্মসাৎ করার পাশাপাশি তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে রুবেলের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা উল্লেখযোগ্য। আবু তালেব জানান, সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ২১ জুলাই ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। রুবেল রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার খাগজানা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, এক নারীর সাথে আর্থিক সংকটের কারণে পরিচয়ের সূত্র ধরে রুবেল একটি স্থানীয় এনজিওতে কাজ করছিল। পরবর্তীতে, কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে, ওই নারীকে বিদেশেও পাঠানোর আশ্বাস দেয়। এজন্য প্রথমে এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে উৎসাহিত করে এবং সেই অর্থ ও ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আরও অর্থ আদায় করে মোট চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তার পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা সমস্ত অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেখানে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করানো হয় এবং উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। তাকে অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হয়, এবং রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। এমনকি, তাকে অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছে।
পরবর্তীতে, স্থানীয় সহযোগিতার মাধ্যমে ওই নারী গত ১ জুলাই দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই চক্রের অন্য অভিযুক্তদের, তাদের মানবপাচার নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং সরকার অনুমোদিত বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে, মানবপাচার কিংবা বিদেশে পাঠানোর নামে কোনো প্রতারণার ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন