প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তিতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার জন্য সরকারকে দুই মাসের সময়সীমা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। যদি এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর নেতারা এই ঘোষণা দেন। তারা দাবি করেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা-২০২৫ সংশোধন করে মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য, একই এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় কর্মরত থাকা সত্ত্বেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষকদের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।
তারা অভিযোগ করেছেন, মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১.৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথম এমপিওভুক্তির সময়কাল বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.৭ অনুচ্ছেদে ভিন্ন শর্ত থাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একই ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন না।
শিক্ষক নেতাদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির ধরন প্রায় একই হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র নীতিমালার পার্থক্যের কারণে অনেক শিক্ষক আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন চাকরি করার পরও কাঙ্ক্ষিত উচ্চতর গ্রেড পেতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) ডিগ্রির বিষয়টিও উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণে বৈষম্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষকরা। তাদের বক্তব্য, বিএড ডিগ্রি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও পাঠদান পদ্ধতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে বিএড ডিগ্রি অর্জনের পরবর্তী সময়কে ভিত্তি করায় অনেক শিক্ষককে আর্থিক সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তাদের মতে, পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় এই ডিগ্রির কারণে আর্থিক সুবিধা পেতে বিলম্ব হওয়া শিক্ষকদের জন্য হতাশাজনক। তাই উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণে বিএড ডিগ্রিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈষম্যও দূর করতে হবে।
শিক্ষক নেতারা জানান, দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য তারা গত ১২ আগস্ট, ৩ সেপ্টেম্বর ও ২৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন তারা। তবে এখনো প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না পাওয়ায় নতুন করে দুই মাসের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালার ১১.৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালার ১১.৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা, প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে চাকরির অভিজ্ঞতা গণনা করে প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রদান এবং বিএড ডিগ্রির কারণে সৃষ্ট আর্থিক বৈষম্য দূর করা।
একই সঙ্গে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর গ্রেড প্রদানে অভিন্ন ও ন্যায়সংগত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া ২০২৬ সালে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানান শিক্ষক নেতারা। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং আগামী ঈদুল ফিতরে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের (বাবেশিকফো) সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দীন, নির্বাহী মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আতিকুর রহমান তালুকদার, সহসভাপতি মো. শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মো. রবিউল ইসলাম ও মো. তোফায়েল সরকার।
এ ছাড়া ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসন প্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’-এর মো. সাইদুজ্জামান, মো. মাহমুদুল হাসান মোহাব্বত, মো. রাশেদ, মো. আল মামুন, মো. জসিম উদ্দিন, রিনা খাতুন ও মো. মাসুদসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন