প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনিজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পের আট দিন পর নয়তলা একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। লা গুয়াইরায় ধসে পড়া একটি শপিং মলের পার্কিং এলাকার ২৯ ফুট গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী হারনান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। তিনি ওই ভবনে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
উদ্ধার অভিযানের আগে ওই ব্যক্তির স্ত্রী উসবিমার গঞ্জালেস সিএনএন-কে জানান, ভূমিকম্পের পর তিনি ‘অত্যন্ত বেদনার দিন’ পার করেছেন। কারণ তিনি ভেবেছিলেন তার স্বামী হয়তো আর বেঁচে নেই। তিনি বলেন, কিন্তু যখন জানতে পারলাম, তিনি বেঁচে আছেন, তখন যেন আশার আলো দেখতে পেলাম। তিনি একজন বীরের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করছিলেন। তিনি আরও জানান, বাড়িতে তার সন্তানরা তার বাবার রয়েছেন।
চিলি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কংক্রিট ও ধ্বংসস্তূপের স্তরের মাঝখানের একটি ছোট ফাঁক দিয়ে ওই ব্যক্তির আঙুল নড়ছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, তারা গিলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। এ সময় তাকে পানি, খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করছিল। এছাড়াও একটি পাইপ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে তার কাছে তরল খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল। উদ্ধারের একটি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে গিলের মাথা ও কাঁধের কিছু অংশ বেরিয়ে আছে। তাকে মাস্ক পরা অবস্থায় এবং একটি চোখ রক্তবর্ণ বা লালচে হয়ে থাকতেও দেখা যায়।
জাতিসংঘের দুর্যোগ মূল্যায়ন ও সমন্বয় দলের সদস্য সেবাস্টিয়ান মোকোরকার সিএনএন-কে বলেন, ভূমিকম্পের সাত দিন পর কাউকে জীবিত উদ্ধার করাটা কেবলই এক ‘অলৌকিক ঘটনা’। জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার জন্য তথাকথিত ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বা সর্বোত্তম সময়সীমা সাধারণত তিন দিনের হয়ে থাকে। এরপর পানির উৎস ছাড়া বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়।
কোস্টা রিকার রেড ক্রসের তথ্যমতে, রবিবার প্রথমবার উদ্ধারকারীদের জানানো হয় যে ‘গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে’ শপিং মলের ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ হয়তো এখনো জীবিত থাকতে পারেন। চিলি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রাডার-সোনার এবং শব্দ শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করে উদ্ধারকারী দলগুলো সেখানে একজন জীবিত ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। এরপর বেশ কয়েক জন উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞরা তিন দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে একটি নিরাপদ পথ তৈরি করতে এবং গিলকে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদান করতে কাজ করেছেন। কোস্টা রিকার রেড ক্রস ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছে, হার্নান গিল চিকিৎসাগতভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।
এদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভয়াবহ ভূকম্পে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৯৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন