প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্যারিসের বিখ্যাত ‘সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে’ পড়ার সুযোগ অর্জন করেও কেবল হিজাব না খোলার কারণে ফ্রান্সের ভিসা পাননি তুরস্কের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। বায়োমেট্রিক ছবিতে মাথা ঢেকে রাখার জন্য তার ভিসা বাতিল করা হয় এবং মাথা অনাবৃত রেখে নতুন ছবি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। খবরটি প্রকাশ করেছে ডেইলি সাবাহ।
ইস্তাম্বুলের গালাতাসারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মানজনক ‘এরাসমাস’ শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও বৃত্তির সুযোগ লাভ করেছিলেন। তবে ফ্রান্সের অনুমোদিত ভিসা কেন্দ্র ‘ভিএফএস গ্লোবাল’-এর মাধ্যমে তিনবার আবেদন করার পরও তাকে ভিসা প্রদান করা হয়নি।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ফরাসি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে দ্বিমুখী। কারণ, একই সময়ে তার অন্যান্য হিজাবি বান্ধবীরা হিজাব পরা ছবি দিয়েই কোনো সমস্যা ছাড়াই ফ্রান্সের ভিসা পেয়েছেন।
প্রথম দুইবার তার আবেদন বাসস্থান বা পড়ার কর্মসূচি সংক্রান্ত অযুহাত দেখিয়ে নাকচ করা হয়, তবে আসল কারণ লিখিতভাবে জানতে তিনি তৃতীয়বার আবেদন করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইস্তাম্বুলে ফরাসি কনস্যুলেট থেকে পাঠানো জবাবে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, তাকে মাথা অনাবৃত ছবি জমা দিতে হবে।
নিজের যোগ্যতায় সুযোগ পাওয়ার পরও তা হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই শিক্ষার্থী জানান, ধর্মীয় নীতি মেনে চলা তার ব্যক্তিত্বের অংশ এবং কোনো অবস্থাতেই হিজাব খোলা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, তুরস্কে অসংখ্য শিক্ষার্থী ফরাসি ভাষায় পড়ালেখা করেন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে যেতে চান। যদি নীতিগত কোনো নিয়ম থাকে, তবে তা আগে থেকেই পরিষ্কার করা উচিত, যেন কোনো শিক্ষার্থীকে এমন হয়রানির শিকার হতে না হয়।
টানা তিনবার ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর হতাশা নিয়ে ওই ছাত্রী আর আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভিসা নিয়মনীতিতে স্পষ্টতা আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন