প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন সমুদ্র তলদেশের যুদ্ধকৌশলে বিপ্লব ঘটাতে চলেছে। দেশটি বিশ্বের প্রথম বিশেষায়িত ‘মাদারশিপ’ বা ড্রোনবাহী জাহাজ নির্মাণ করছে, যা পানির নিচে চালকবিহীন বিশাল ড্রোন বা মাইনাস সাবমেরিন পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ‘ভ্যান্টর’ (Vantor)-এর স্যাটেলাইট চিত্রে চীনের এই গোপন সামরিক প্রস্তুতির চিত্র উঠে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সাংহাইস্থ ‘হুডং-ঝুংহুয়া’ শিপইয়ার্ডে অত্যন্ত গোপনে জাহাজটির নির্মাণকাজ চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিশ্বের সামরিক ইতিহাসের প্রথম বিশেষায়িত জাহাজ, যা পানির নিচে একাধিক বিশাল আকৃতির চালকবিহীন সাবমেরিন (ড্রোন) বহন ও পরিচালনা করতে সক্ষম।
স্যাটেলাইট চিত্রে যা দেখা গেছে
মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের স্যাটেলাইট ছবিতে একটি লাল রঙের সুবিশাল জাহাজের অবকাঠামো দেখা যাচ্ছে। স্বাধীন আন্ডারওয়াটার ওয়ারফেয়ার বিশেষজ্ঞ এইচ আই সাটন (H I Sutton) সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘নেভাল নিউজ’-কে জানান, জাহাজটির আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে—এটি অন্তত ৪টি বিশাল আকারের স্বায়ত্তশাসিত সশস্ত্র সাবমেরিন বা ‘XXLUUV’ (Extra-Extra-Large Uncrewed Undersea Vehicle) বহন করতে সক্ষম।
জাহাজটির অভ্যন্তরে একটি বিশেষ হ্যাঙ্গার ও হ্যাচওয়ে রয়েছে, যা সাধারণ বাণিজ্যিক বা গবেষণামূলক জাহাজে দেখা যায় না। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হবে। এর আগে এই শিপইয়ার্ডে চীন তাদের বড় উভচর হামলাকারী যুদ্ধজাহাজগুলো নির্মাণ করেছে।
আমেরিকাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে চীন
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, চীনে নির্মিত এই ড্রোন সাবমেরিনগুলো সাধারণ ড্রোনের তুলনায় অনেক বড় ও শক্তিশালী। সাগরে এগুলো প্রায় ১০,০০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি ও ভারী টর্পেডো দিয়ে হামলা চালাতে সক্ষম।
আকারে এগুলো আমেরিকার দূরপাল্লার 'অরকা' (Orca) এক্স-লার্জ ড্রোন সাবমেরিনের তুলনায় প্রায় ৬ থেকে ৮ গুণ বড়। যেখানে আমেরিকার অরকা প্রায় ৫১ ফুট দীর্ঘ, সেখানে চীনের এই চালকবিহীন সাবমেরিনগুলোর দৈর্ঘ্য ১১৫ থেকে ১৪৮ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।
ইন্দো-প্যাসিফিকের ভারসাম্যে প্রভাব
নতুন এই 'মাদারশিপ' ও ড্রোন বহর চীনের মূল লক্ষ্য—দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে তাদের সামরিক আধিপত্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে চীনের জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি। বর্তমানে চীনের বহরে ৪-শরও বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বহুবার তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের তলদেশে চালকবিহীন এমন মারাত্মক মাদারশিপের উপস্থিতি যেকোনো সামুদ্রিক সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন