প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মদপান করার পর অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু ঘটেছে, যাদের মধ্যে একজন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা। এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার ধান্নারপাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগের কথা প্রচার করা হলেও পরে জানা যায়, অতিরিক্ত মদপানের বিষয়টি এর সাথে জড়িত।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন দেবিদ্বার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুনাইঘর উত্তর পাড়ার বাচ্চু মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিন (৩২), যিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। অপরজন হলেন উপজেলার হাপুড়খাড়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে বাসার খান (৩১)।
অসুস্থ চারজনের মধ্যে আছেন ধান্নারপাড় এলাকার আতিক (৩৩), শাহীন শাহ (২৮), মোহাম্মদ নাঈম (২৮) এবং এলাহাবাদ গ্রামের অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে নাঈমের মামার বাড়িতে সালাউদ্দিন, বাসার খানসহ কয়েকজন মদপান করেন। কিছুক্ষণ পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন প্রতিবেশীরা সালাউদ্দিনকে নিজ ঘরে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ অক্টোবর তার মৃত্যু ঘটে।
অন্যদিকে, অসুস্থ বাসার খানকেও প্রথমে দেবিদ্বার ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করার পর ২৫ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। দুই যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অন্য অসুস্থরা গোপনে চিকিৎসা নিতে ঢাকায় যান বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহমুদুল হাসান তামিম বলেন, ‘নিহত সালাউদ্দিন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা জানানো হলেও পরে অতিরিক্ত মদপানের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। পরিবার বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতদের পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মৃত্যুর ঘটনা সত্য। মাদকসংশ্লিষ্ট বিষয় হওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় পরিবার হয়তো বিষয়টি গোপন রেখেছে। মরদেহ দাফনের পর সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমাও সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন বলে জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন