প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডি-তে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর বরিশাল বাফার গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ শাহ আলম গাজীকে নিয়ে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ওই সংবাদের বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন শাহ আলম গাজী। একই সঙ্গে সংবাদের কয়েকটি বিষয়কে অসত্য, অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এক লিখিত প্রতিবাদপত্রে শাহ আলম গাজী বলেন, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে তার ভিন্ন বক্তব্য ও ব্যাখ্যা রয়েছে। তার বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হলে পাঠক ও জনসাধারণের কাছে বিষয়টির একটি পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক চিত্র প্রতিফলিত হতো বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি প্রচলিত সরকারি বিধিবিধান, দাপ্তরিক নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।
সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে শাহ আলম গাজী বলেন, তার ও তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদ বৈধ উৎস থেকে অর্জিত। এসব সম্পদের বিষয়ে কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথিপত্র চাইলে তিনি প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের নামে পরিচালিত ব্যবসা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, তার পরিবারের সদস্যরা স্বতন্ত্রভাবে নিজ নিজ ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার সরকারি দায়িত্ব বা পদমর্যাদা ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য অবৈধ সুবিধা প্রদান কিংবা সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন।
বরিশাল বাফার গোডাউনের সার ব্যবস্থাপনা ও পরিবহনসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়েও তিনি ভিন্নমত পোষণ করেন। শাহ আলম গাজী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং প্রচলিত সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করেই গোডাউনের সার ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সরকারি সার পরিবহন, সংরক্ষণ, গ্রহণ ও বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম কিংবা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্ত করতে পারে। তিনি এ ধরনের যেকোনো বৈধ তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব বিষয়েও তিনি ভিন্নমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকেই তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ তিনি সমর্থন করেন না এবং এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত মনে করেন না।
এ ছাড়া, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে প্রভাব বিস্তার কিংবা বদলি ঠেকানোর বিষয়ে প্রতিবেদনে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত বা দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র ও সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি এ ধরনের অভিযোগেরও প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদপত্রে শাহ আলম গাজী আরও বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি বা মহল সংবাদমাধ্যমের কাছে তার সম্পর্কে একপক্ষীয় বা অসম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করে থাকতে পারে। এর ফলে প্রতিবেদনে বিষয়গুলো সম্পর্কে এক ধরনের ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম তাদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে সংবাদ প্রকাশ করে থাকে—এ বিষয়টির প্রতি তিনি সম্মানশীল। একই সঙ্গে তিনি প্রত্যাশা করেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য যথাযথভাবে যাচাই ও উপস্থাপন করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে কোনো অনুসন্ধান বা সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক নথিপত্র এবং যাচাইযোগ্য তথ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে। এতে পাঠক ও জনসাধারণ কোনো বিষয়ে একপাক্ষিক তথ্যের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বস্তুনিষ্ঠ চিত্র সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
শাহ আলম গাজী বলেন, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন বা সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়মের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট আইনগত ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অথবা আইন অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো সংস্থার নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হলে তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শাহ আলম গাজী আশা প্রকাশ করেন, তার এই প্রতিবাদপত্র ও ব্যাখ্যা অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করবে। এতে পাঠক ও জনসাধারণ প্রকাশিত সংবাদের পাশাপাশি তার বক্তব্য, অবস্থান ও ব্যাখ্যা সম্পর্কেও অবগত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সবশেষে, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বরিশাল বাফার গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ শাহ আলম গাজী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে তথ্যের যথার্থতা, নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং প্রচলিত আইন ও নৈতিকতার আলোকে বিষয়গুলো উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবাদকারী
শাহ আলম গাজী
ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ
বরিশাল বাফার গোডাউন
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন