প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের ইরানশাহরের বাম্বুর গ্যারিসনে মার্কিন হামলায় দেশটির অন্তত সাত সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই তথ্য ইরানের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। হামলার পর তারা এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি হিসেব মতে, গত এক সপ্তাহে ৩০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিস্তান-বালুচিস্তানের ইরানশাহরে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটি বাম্বুর গ্যারিসনে ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, 'সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর এই হামলায় ইরানশাহরের ৩৮৮তম ব্রিগেডের সাতজন পেশাদার সেনা সদস্য শাহাদাত বরণ করেছেন এবং বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।'
হামলাটি ওই স্থাপনার একটি স্যানাটোরিয়াম, গেস্টহাউস এবং প্রহরা চৌকিতে চালানো হয়েছে। ইরানি বাহিনী এই হামলাকে 'কাপুরুষোচিত আগ্রাসন' আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'উপযুক্ত সময়ে এই অপরাধের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।'
মার্কিন হামলাগুলো মূলত হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী দক্ষিণ ইরানকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের নির্দেশনা না মানা জাহাজগুলোর ওপরেও হামলা চালানো হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয়, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। তারপর গত সপ্তাহে মার্কিন হামলার পর নৌপথটি আবারও খুলে দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গভীর রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনরায় শুরু করেছে। এদিকে আমেরিকার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবাধ চলাচলকে তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে বারবার জোর দিয়েছে।
কিন্তু ট্রাম্প গত সোমবার (১৩ জুলাই) ঘোষণা করেন যে, ওয়াশিংটন এখন হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেবে, বিনিময়ে প্রেরিত সমস্ত পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন