প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পৌঁছেছেন। এটি বেসামরিক নেতা হিসেবে তার প্রথম থাইল্যান্ড সফর বলে জানা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মন মতে, এই সফরের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের সম্পর্কগুলি উন্নত করার চেষ্টা করছেন।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মিয়ানমার একটি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে প্রবেশ করে। বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, এ সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এপ্রিলের নির্বাচনের পর মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে গণতন্ত্রপন্থী সংগঠন এবং পশ্চিমা দেশগুলি ওই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করেছে।
অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আসিয়ান মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাদের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগদান সীমিত করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। গত মাসে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাংককে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন। বেসামরিক পোশাক পরিধান করার পর মিন অং হ্লাইং ইতিমধ্যে ভারত, চীন এবং লাওসে সফর করেছেন।
এবার তিনি থাইল্যান্ড সফরে গেলেন।
থাইল্যান্ড সফরের পূর্বে গৃহবন্দি অং সান সু চি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির এক প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। ২০২১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল তার কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ। মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস বলেন, মিয়ানমার আবার আসিয়ানে পূর্ণ সদস্য হিসেবে সক্রিয় হলে, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ গঠন করে।
তবে তার মতে, ভারত, চীন, রাশিয়া এবং থাইল্যান্ডের সমর্থন থাকায় আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এখন মিয়ানমারের জন্য জরুরি নয়, বরং এটি অতিরিক্ত কূটনৈতিক সুবিধা।
স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসনের মতে, আসিয়ানে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার প্রচেষ্টা মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য মর্যাদার একটি বিষয়। তিনি বলেন, একদিকে মিন অং হ্লাইং নিজেকে আসিয়ানের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে প্রমাণ করতে চান, অন্যদিকে তিনি সংঘাত নিরসনের জন্য আসিয়ানের প্রস্তাবিত পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেননি।
থাইল্যান্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। পরে তিনি থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সাথে বৈঠক করবেন। এছাড়াও তিনি একটি ব্যবসায়িক ফোরাম এবং সরকারি নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন। সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই সফরের বিরুদ্ধে সমালোচনাও রয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের জন্য বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাই তার জন্য আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া উচিত নয়।
অপরদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার জন্য বাস্তব কারণ রয়েছে থাইল্যান্ডের। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তে চলমান সংঘাত, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখো শরণার্থী, সীমান্তে সাইবার প্রতারণা এবং অবৈধ মাদক পাচার, এসব সকল বিষয় থাইল্যান্ডের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেট বলেছেন, মিন অং হ্লাইংয়ের সফরে সাইবার প্রতারণা দমনের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ দেশটিতে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একই সাথে অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রতিনিধির সাম্প্রতিক সাক্ষাৎটিকে তিনি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন