প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অতীতের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বর্ণনা প্রদান করে বলেছেন, ‘গুম, খুন, অপহরণ, আয়নাঘর, জেল-জুলুম, মিথ্যা মামলা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি’ আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের কাছে আইনের শাসন, জনজীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এবং জানমালের নিরাপত্তার প্রত্যাশা করা একেবারেই তুচ্ছ এবং গুরুত্বহীন। দেশের জনগণ শান্তিতে এবং নিরাপদে থাকতে চায়, কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কখনও তা চায় না। জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে তারা আনন্দ উপভোগ করে, যা আওয়ামী লীগের প্রকৃত চরিত্র।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাস স্টেশনে ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামের ৬ষ্ঠ গুম দিবসে ‘তার সন্ধান ও গুমে জড়িতদের গ্রেফতার’ দাবিতে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ গুমের শিকার সাইফুল ইসলামের দ্রুত সন্ধান এবং জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় ভিন্নমত ও আদর্শের নেতাকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতের গুরুত্ব দেয়। বিগত ১৬ বছর ধরে বিএনপি, ভিন্নমত এবং আদর্শের মানুষেরাই ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের প্রধান টার্গেট। তারা গুম, খুন, অপহরণ, আয়নাঘর, জেল-জুলুম ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামও তাদের মধ্যে একজন। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী এবং প্রতিশ্রুতিশীল যুবক। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে কোথায় গেছে, আজও তার পরিবার কোনো হদিস পায়নি। এমন নৃশংস এবং বেদনাদায়ক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দলবল নিয়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। শেখ হাসিনা এবং তার নেতারা বিদেশে বসে মাতৃভূমি বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে তারা তা প্রকাশ করেছে।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, গত ৭ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে দেশ দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছে। দেশের জনগণ ভালো থাকলে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সহ্য হয় না। দেশ এখন স্থিতিশীল থাকায় আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা কুকর্ম করার চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেছে। তারা নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ আওয়ামী লীগের সব ষড়যন্ত্র এবং সহিংসতার অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি জনগণের জানমাল এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস এবং অশুভ তৎপরতা মোকাবিলার জন্য ঐক্যবদ্ধ বীর যোদ্ধা হয়ে মাঠে থাকতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
গুমের শিকার সাইফুলের পরিবার এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিয়াকত আলী, মানবাধিকার কর্মী মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপি নেতা এমএ লতিফ ভূঁইয়া, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, জসিমউদ্দিন আহমেদ, এনামুল হক সফর তালুকদার, গুম সাইফুলের বড় ভাই মো. জহিরুল ইসলাম, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, আরিফ মাহামুদ, মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, শরীফ চৌধুরী, রোমান খন্দকার, আসিফ কবির, আবদুল বাসেদ এবং লিমন খন্দকার প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন