প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেতানিয়াহু হামাসের ভয়ে দুই ঘণ্টা নিজ বাড়িতে ছিলেন?
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়ার পর, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার কায়সারিয়ার বাসভবন থেকে তেল আবিবের সামরিক সদর দপ্তর কিরিয়ায় পৌঁছাতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান হার্জি হালেভি কিংবা শিন বেতের প্রধান রোনেন বার—কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
এক প্রতিবেদনে চ্যানেল ১২ উল্লেখ করেছে, নেতানিয়াহুকে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে তার সামরিক সচিব হামাসের হামলার বিষয়ে অবহিত করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাড়িবহর প্রস্তুত করতে সময় লাগায় তিনি সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বাসা থেকে বের হন এবং সকাল ৮টায় কিরিয়ায় পৌঁছান। যদিও শিন বেতের নথিতে তার পৌঁছানোর সময় সকাল ৮টা ২২ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, চ্যানেল ১২ দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অপ্রকাশিত নথিতে তার প্রকৃত পৌঁছানোর সময় সকাল ৯টা এবং একটি ‘বিশ্বস্ত সূত্র’ অনুযায়ী তা সকাল সাড়ে ৯টা।
অর্থাৎ, হামাসের হাজারো যোদ্ধা ইসরায়েলি সীমান্তবর্তী এলাকায় তাণ্ডব চালানোর সময়ও নেতানিয়াহু কায়সারিয়ার বাসভবনেই ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে নেতানিয়াহু দাবি করেন, হামলার আগে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে সতর্ক করেননি। তিনি বলেন, যদি তাকে রাতে জাগিয়ে সম্ভাব্য হামলার তথ্য জানানো হতো, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইডিএফ ও বিমানবাহিনীকে প্রস্তুত করতেন।
তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাস বড় ধরনের স্থল হামলা চালাতে যাচ্ছে—এমন মূল্যায়ন তাদের ছিল না।
যদিও হামলার প্রায় তিন ঘণ্টা আগে সন্দেহজনক হামাস তৎপরতা নিয়ে একটি গোয়েন্দা স্মারক নেতানিয়াহুর গোয়েন্দা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রথম পরিস্থিতি মূল্যায়ন সভা করেন। এরপর তিনি পূর্ণাঙ্গ আইডিএফ মোতায়েন এবং সীমান্ত ‘সম্পূর্ণভাবে সিল’ করার নির্দেশ দেন। তবে আইডিএফের নিজস্ব তদন্তে দেখা গেছে, সকাল ৮টার দিকেই সামরিক বাহিনী যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল।
হামাসের হামলার বিষয়ে একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
বিরোধী দল ও ৭ অক্টোবরের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতিনিধিরা এ নিয়ে তার সমালোচনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন