প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার (৩৭০ বিলিয়ন পাউন্ড) মূলধন সংগ্রহের লক্ষ্যে এনভিডিয়া ওয়াল স্ট্রিটের কয়েকটি প্রধান ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীদের সাথে জোট করেছে।
চিপ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা অ্যাপোলো, ব্ল্যাকরক, ব্ল্যাকস্টোন, ব্রুকফিল্ড, গোল্ডম্যান স্যাক্স এবং কেকেআরের সাথে চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা প্রথমবারের মতো এআই হার্ডওয়্যার ও অবকাঠামোকে, যা সাধারণত ‘কম্পিউট’ নামে পরিচিত, পৃথক একটি অ্যাসেট ক্লাস হিসেবে বিবেচনা করছে।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলছেন, “এআইয়ের ক্ষেত্রে কম্পিউটই হলো রাজস্ব। এআই অবকাঠামোয় স্বাধীনভাবে অর্থায়নের জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সরবরাহকারীদের একত্র করা হচ্ছে।”
সংগ্রহিত অর্থটি এনভিডিয়ার নিজস্ব প্রকল্প এবং অংশীদারদের নির্মিত প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। এই তহবিলের আওতায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের মতো অনেক অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে। এসব ডেটা সেন্টারে এআইয়ের তথ্য ও কার্যক্রম প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিপুলসংখ্যক কম্পিউটার চিপ রাখা, পরিচালনা এবং ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থাও থাকবে।
এছাড়া, এআই চিপ তৈরির নতুন কারখানা নির্মাণ এবং ক্রেতাদের কাছে এসব চিপের সরবরাহ বৃদ্ধি করতেও এই অর্থ ব্যবহার করা হতে পারে। কেকেআরের সহ-প্রধান নির্বাহী জো বে ও স্কট নাটাল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “কম্পিউট একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল অবকাঠামোর ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে তারা বুঝেছেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে বাস্তবায়নই কঠিন কাজ।”
বর্তমানে প্রায় সব বড় প্রযুক্তি ও এআই কোম্পানি তাদের পরিষেবা, এআই প্ল্যাটফর্ম এবং এআই চ্যাটবট পরিচালনায় এনভিডিয়ার কম্পিউটার চিপ বা গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) ব্যবহার করে।
নভেম্বর ১০ তারিখে একটি বিবৃতিতে হুয়াং চিপ নির্মাতা হিসেবে এনভিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে বলেছেন, তারা এখন নতুন ধরনের উৎপাদনশীল এবং বিনিয়োগযোগ্য অবকাঠামো, যা ‘এআই ফ্যাক্টরি’ বলা হয়, তৈরিতে সহায়তা করছে। এনভিডিয়ার অংশীদার ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের এই নতুন সক্ষমতা এআইয়ের দ্রুত বিস্তারে আরও বড় পরিসরে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করবে।
১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ পরিচালনাকারী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলোর প্রেসিডেন্ট জিম জেল্টার বলেছেন, “আধুনিক কম্পিউটিং একটি দুর্লভ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ শ্রেণি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।”
এর আগে গত মাসে ব্ল্যাকরক টেক্সাসের একটি ডেটা সেন্টারে অর্থায়ন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা নেওয়ার জন্য মেটার সঙ্গে পৃথক একটি চুক্তি করেছে। অন্যদিকে, এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক সম্প্রতি তাদের অবকাঠামোয় বিনিয়োগের জন্য ম্যাককোয়ারি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এবং সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ ব্যাংক জিআইসির সাথে চুক্তি করেছে।
অ্যানথ্রোপিক চুক্তিটির আর্থিক আকার জানায়নি, তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জনপ্রিয় চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর চাহিদার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সেই চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য নতুন কম্পিউটিং সক্ষমতা প্রয়োজন।
সূত্র-বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন