প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরের মনিরামপুরে দেবিদাসপুর-পাতন ভায়া মাঝিয়ালি সংযোগ সড়কের ওপর নির্মিত হরিহর নদীর কংক্রিটের সেতুটি বর্তমানে হেলে পড়ে আছে। এর সাথে পিলারে ফাটল, নিচের অংশের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে যাওয়া এবং পাটাতনে ফাটল ধরার পর গত ৫ দিন ধরে সেতু দিয়ে যান চলাচল ও মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এই অবস্থার ফলে নদের দুই পাড়ের কয়েক শ পরিবার এবং স্কুল-মাদরাসায় যেতে চাওয়া শতাধিক শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের দিকে নির্মিত সেতুটি গত শনিবার সকালে মাঝ বরাবর দেবে গিয়ে একদিকে হেলে পড়ে। সেতুর নিচের পিলার থেকে পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে। সেই সাথে সংযোগ সড়কেও বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
যেকোনো সময় সেতুটি সংযোগ সড়কসহ ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তুলে ধরে স্থানীয়রা দুই প্রান্তে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন।
মনিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়ে সেতুটি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, সম্প্রতি হরিহর নদী খননের পর কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ার ফলে সেতুর গোড়ায় মাটি সরে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
দেবিদাসপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব মন্তব্য করেন যে, এই সেতুটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বরং দুই পাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত।
সেতু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবাই বিপাকে পড়েছেন।
পাতন দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহাফুজ হোসেন জানান, সেতুর মাধ্যমে যেতে না পেরে অনেক পথ ঘুরে মাদরাসায় যেতে হচ্ছে। এর ফলে সময় এবং ভোগান্তি দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাদরাসার সহকারী তত্ত্বাবধায়ক আক্তারুজ্জামান জানান, প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেবিদাসপুর গ্রামের। সেতুটি বন্ধ হওয়ার কারণে তাদের প্রায় এক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে।
এতে নিয়মিত পাঠদানেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সময়ানুবর্তিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়রা উল্লেখ করেন যে, পাতন ও দেবিদাসপুর গ্রামের কয়েক শ পরিবারকে সংযুক্ত করেছে সেতুটি। পাতন ও মাঝিয়ালি গ্রামের অনেক কৃষকের জমি দেবিদাসপুর এলাকায় রয়েছে। সেতুটিই তাদের কৃষিজমিতে যাতায়াত এবং ফসল আনা-নেওয়ার প্রধান পথ। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং কৃষিকাজ উভয়েই ব্যাহত হবে।
মনিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক জানিয়েছেন, পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দুই বছর আগে ইউএন প্রকৌশলী দপ্তরকে জানানো হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে যাওয়ায় আবারও বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রকৌশলীরা সরেজমিনে এসে দেখেছেন এবং দ্রুত নতুন সেতুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে এসেছি। দ্রুত নতুন সেতুর বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।
কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন