প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত জানিয়েছেন, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির অধীনে সারা দেশে ইতোমধ্যে দুই কোটি শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের পথে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো মোকাবেলার জন্য নতুন সরকারের নেতৃত্বে কাজ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে জনগণের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, গ্যাভি, ইউনিসেফ এবং বিশেষভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সহযোগিতা করছেন।
হাম প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া কার্যক্রম তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৫ দিন পর থেকেই যে লড়াই শুরু করেছে, তার অগ্রগতি ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সারা দেশে দুই কোটি শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরেও সরকার থেমে নেই। প্রতিটি শিশুর জীবন মূল্যবান। একটি শিশুও যেন টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। এ কারণেই এবারের কর্মসূচিকে ‘মপ-আপ ক্যাম্পেইন’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু এবং আগের ধাপের টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব শিশুর প্রতিটি ঘরে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে তাদের নিরাপত্তা ও জীবন নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জনগণের কাছে সরকারের অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আগামী এক মাসের মধ্যে আরো প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া এই কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হতো না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, গ্যাভি ও ইউনিসেফ সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সবাই অনেক কষ্ট করে কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিশুকে খুঁজে বের করছেন।
তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কিংবা প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে বসবাসকারী শিশুর কাছে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, যত বাধা বা চ্যালেঞ্জই আসুক না কেন, সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এবং দেশি-বিদেশি সব প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। স্বাস্থ্যের বিষয়ে জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন