প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরে ৭৬৩ বোতল ফেনসিডিল ও ১০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। একই মামলায়, গাঁজা রাখার অপরাধে তাদের প্রত্যেককে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রংপুরের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মশিউর রহমান খান এই রায়টি ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো মানিকগঞ্জ সদর থানার নবগ্রাম এলাকার মো. নয়ন ওরফে নয়া মিয়ার ছেলে মো. রাসেল মিয়া (২৬) এবং সিংগাইর থানার রায়দক্ষিণ এলাকার মো. শহিদ মিয়ার ছেলে মো. রাব্বি (২৬)। তাদের দুজনকেই আদালত পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, তাজহাট থানার মামলা নম্বর-১০, তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২০ এবং জিআর নম্বর-১১৭/২০-এর ভিত্তিতে দায়রা মামলা নম্বর-৫৮১/২৫ পরিচালিত হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৪(গ) ও ১৯(খ) ক্রমিয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় দুই আসামির কাছ থেকে ৭৬৩ বোতল ফেনসিডিল ও ১০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
আদালত রায়ে বিবৃত করেছে, প্রসিকিউশনপক্ষের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায়, আসামি রাসেল মিয়া ও রাব্বিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ১৪(গ) ক্রমিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করার ক্ষেত্রে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হলে হবে।
একই সঙ্গে, ১০ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের বিষয়ে আইনটির ৩৬(১) ধারার ১৯(খ) ক্রমিকে তাদের প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে, এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।
তবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী, উভয় সাজা একযোগে চলবে। মামলার অপর আসামি মো. নয়ন ওরফে নয়া মিয়া (৫২), পিতা মো. আলী ব্যাপারী, মাতা সোনাবাল, মানিকগঞ্জ সদর থানার নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা, এই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায়, আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছে।
রায়ে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যখন গ্রেপ্তার হবে অথবা স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবে, তখন থেকেই তাদের সাজা গণনা শুরু হবে। মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যাদের হাজতবাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার বিধান অনুসারে তা মূল সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলায় জব্দ করা গাঁজা ও ফেনসিডিল বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করতে হবে, জব্দ করা মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে হবে এবং জব্দ করা ট্রাকটি মূল মালিকের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত আলামতসংক্রান্ত আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব রংপুর মহানগর পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর ও মালখানাকে অর্পণ করা হয়েছে।
রায়ের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, রংপুর এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রংপুরের কাছে পাঠানো নির্দেশও আদালত দিয়েছেন।
মামলায় প্রসিকিউশনপক্ষে রাষ্ট্রের আইনজীবী ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল হাদী বেলাল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন