প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীতাকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি এলাকায় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা সন্ত্রাসের জনপদের তকমা পেয়েছে। বৃহস্পতিবার, পূর্ব মাকহাটী গ্রামে বিএনপির দুই বিবদমান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হন এবং ককটেল বিস্ফোরণে একজনের হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আবু সাঈদ ও মো. হৃদয় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এবং সাইফুল হাওলাদারের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্য আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মিল্টন মল্লিক, যুবদল কর্মী মো. মুন্না ও আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাকহাটীসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মিল্টন মল্লিক অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিন মাস পর নিজেদের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই শুরু হয়। তারা দুগ্রুপে বিভক্ত হয়ে একাধিকবার সংঘর্ষে জড়ান।
একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ মোল্লা, যিনি মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের সামারচর গ্রামের বাসিন্দা। অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতোয়ার হোসেন আতিক মল্লিক। তারা কেউই এলাকায় থাকেন না এবং বাইরে থেকে নিজেদের গ্রুপ পরিচালনা করেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আধিপত্য বিস্তারে একাধিকবার সংঘর্ষের কারণে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই পক্ষই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সূত্র জানায়, আওলাদ মোল্লা আগামী মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ফ্রান্স প্রবাসী একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আতোয়ার হোসেন আতিক মল্লিক। এ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, মোল্লাকান্দিকে অনেকে ‘ককটেলকান্দি’ বলেও অভিহিত করেন। তুচ্ছ কারণে সংঘাত-সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের কারণেই ইউনিয়নটি এমন নাম পেয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের সময় গ্রামবাসী ভয়ে তাদের বসতঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে অবস্থান নেন।
গ্রামবাসী জানায়, বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর চরাঞ্চলের অন্যান্য গ্রামেও এর প্রভাব পড়েছে। পশ্চিম মাকহাটী, মহেশপুর, রাজারচর, চরডুমুরিয়া, আমঘাটা গ্রামে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহত সাইফুল হাওলাদারের মা পেয়ারা বেগমের দাবি, ভোরে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতোয়ার হোসেন আতিক মল্লিকের সমর্থক এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মিল্টন মল্লিক দলবল নিয়ে তাঁর ছোট ছেলে সাইফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তাঁর ছেলে পালাতে গেলে ককটেল ছুড়ে মারে, যার ফলে সাইফুলের ডান হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন মোল্লা জানান, সংঘর্ষে আহতরা সবাই তার সমর্থক। সন্ত্রাসী মিল্টন মল্লিকের নেতৃত্বে হামলা চালানোর কারণে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতোয়ার হোসেন মল্লিক জানান, এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি শুনেছেন, আধিপত্য নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. তসলিম উদ্দিন জানান, আধিপত্য বিস্তারে বৃহস্পতিবার সকালে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব মাকহাটী গ্রামে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিসহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যাতে তিনজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরে সেখান থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আওলাদ হোসেন মোল্লার গ্রুপের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাখিল করা অভিযোগ মামলায় নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যপক্ষও অভিযোগ দাখিল করবে বলে শুনেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন