প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এমন সতর্কবার্তার পর, যে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরাইলের শত্রুরা হামলা চালাতে পারে, বুধবার ভোরে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ অভিযোগ করেছেন যে নেতানিয়াহু জনগণের মধ্যে ভয় ছড়াচ্ছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জনমত জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, ক্ষমতা ধরে রাখার প্রতিযোগিতায় থাকা নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান, হামাস ও হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকেও সতর্ক করে আসছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে কোনো পক্ষ হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
ইসরাইল গাজা ও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি, তুরস্ক, সিরিয়া ও কাতারের নেতাদের বিরুদ্ধেও নেতানিয়াহুর বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে আরও কঠোর হয়েছে।
মঙ্গলবার একটি সামরিক ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমানের সামনে দাঁড়িয়ে তৈরি করা ভিডিওতে নেতানিয়াহু সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর, পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকের দাবি জানান।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে গভীর রাতে বৈঠকের পর লাপিদ বলেন, তিনি নিশ্চিত যে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ‘জনগণকে আতঙ্কিত করার কোনো কারণ নেই।’
তিনি অভিযোগ করেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে দেওয়া সতর্কবার্তাগুলো নেতানিয়াহু উপেক্ষা করেছিলেন। ওই হামলা ছিল ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এর জবাবে ইসরাইল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।
লাপিদ বলেন, ‘৭ অক্টোবরের আগে নেতানিয়াহু প্রতিটি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন। আর এখন নির্বাচনের মাত্র ২৮ দিন আগে তিনি হঠাৎ জনগণের মধ্যে ভয় ছড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।’
তিনি জানান, নিরাপত্তা বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তার গোপনীয়তা তিনি রক্ষা করবেন। তবে তার ভাষায়, ‘নিরাপত্তা হুমকি অবশ্যই পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’
লাপিদ আরও বলেন, ‘ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি নির্বাচনী প্রচারের ভিডিও তৈরির জায়গা নয়।’
মধ্যপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী লাপিদ এবারের নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার একজন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটও নেতানিয়াহুর অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন।
লাপিদের অনুরোধের পরপরই নেতানিয়াহু সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে দপ্তরটি বলেছে, ‘গোয়েন্দা তথ্যসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ফ্রন্টে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।’
মঙ্গলবারের ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যে নির্বাচনের আগে আমাদের শত্রুরা হামলা চালানোর চেষ্টা করবে।’
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি আপনাদের একটি বার্তা দিচ্ছি: আমাদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াবেন না—এখনও নয়, কখনোই নয়। আমাদের দীর্ঘ হাত যেকোনো জায়গায়, যেকোনো সময় আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবে।’
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
এপ্রিলের পর থেকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি হামলা হয়নি। তবে ইরানের ধর্মীয় সরকার ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিদেশে থাকা হামাস নেতাদের হুমকি
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ গাজার বাইরে অবস্থানরত হামাস নেতাদেরও হুমকি দিয়েছেন। এর আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, রাতের অভিযানে গাজার উত্তরাঞ্চলে হামাসের এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
এক ভিডিও বিবৃতিতে কাটজ বলেন, ‘বিদেশে থাকা হামাস নেতারাও আমাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছেন। ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এসব ঘৃণ্য হত্যাকারীদের কেউই যেন শান্তিতে নিজের বিছানায় মারা যেতে না পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একবার তারা একটি ভুলের কারণে রক্ষা পেয়েছিল—কিন্তু পরেরবার সেই সুযোগ থাকবে না। তাদেরও নরকের গভীরে পাঠানো হবে।’
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকে ইসরাইলি বিমান হামলার দিকে ইঙ্গিত করে কাটজ এই মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই হামলায় কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং হামাসের পাঁচ সদস্য নিহত হন। তবে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের কেউ নিহত হননি।
হামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পরে ওয়াশিংটনের উদ্যোগে গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিশ্চিত করা হয়, যার ফলে ইসরাইলি হামলা কমেছে, তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন