প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের সমুদ্র-নৌপথকে পরিকল্পনা মাফিক সাজাতে পারলে এবং শক্তিশালী করতে পারলে, তখনই আমরাই আমাদের সার্বভৌমত্বকে আরো শক্তিশালী করতে সক্ষম হব।’
এ সব কথা তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন।
মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এখনও আমাদের সংস্কার ও বিচারের দাবিতে কথা বলতে হচ্ছে। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তাদের পরিণতি স্বৈরতান্ত্রিক হবে। রাষ্ট্রপতি কে হবে তার ভার ন্যস্ত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এতদিন যে ক্ষমতার ভারসাম্যের আলোচনা হয়েছে, সরকার এখন তার উল্টো দিকে হাঁটছে। পাঁচ মাসের মধ্যে জনগণ কথা বলার সুযোগ পেয়েছে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা এক অসমাপ্ত কাজ করে এসেছি। কেন আমরা সফল হতে পারিনি, তা আমাদের দায়ী করতে পারেন। তবে বাস্তবতা হলো, সেসময় আমাদের সমর্থন পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যারা গণঅভ্যুত্থানের কর্তৃত্ব দাবি করছেন, তারা তো প্রথমেই ক্যান্টনমেন্ট চলে গেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্বের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা উচিত।’
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়বেন, এটি অনেকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ক্ষমতার কাঠামোর পরিবর্তন কিংবা তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন, এমনটি অনেকের প্রত্যাশায় ছিল না। বরং এই পরিকল্পনা ছিল যে, আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলে রেখে পরবর্তীতে আবার ক্ষমতায় আনে।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগকে নেতৃত্ব প্রদান করা। আমরা জানি ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি আন্দোলন হয়েছে এবং আন্দোলনের দুর্গ হিসেবে চট্টগ্রাম শহর গড়ে উঠেছিল; যেটা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উৎসাহিত হয়েছিল। আগামীতে যদি জনগণের পক্ষে কোনো আন্দোলন ঘটনার সৃষ্টি হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই সে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে।’
সমুদ্র ও বন্দর নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য, ‘আমাদের তিন দিকে ভারত অবস্থিত। আমাদের একমাত্র উন্মুক্ত স্থান হচ্ছে সমুদ্র, যার মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্বে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি। এর ফলে বাংলাদেশ কখনোই ভারতের দিল্লির ওপর নির্ভরশীল নয়। আমরা স্বনির্ভর হতে পারছি কারণ আমাদের সমুদ্র বন্দর রয়েছে। আমাদের সমুদ্র-নৌপথ যদি পরিকল্পনা মাফিক সাজানো যায় এবং শক্তিশালী করা যায়, তাহলেই আমাদের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী হবে। এই নেতৃত্ব অবশ্যই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই হতে হবে।’
সভায় আরো বক্তব্য দেন চবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহাইব, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন