প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর ৩৩ বছর বয়সী রাজ কুমার দিয়ালির একটি হাতের সন্ধান পেয়েছেন তার স্বজনরা। রাজ কুমারের হাতটি কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় রাজ কুমার তার স্ত্রী শ্রীতি দিয়ালি (৩০) এবং চার বছরের ছেলে সিরাজকে নিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে স্বজনরা চিতওয়ান ও নাওয়ালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালান। কাদা ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে মরদেহ খুঁজলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তখনও ক্ষীণ আশা ছিল—হয়তো তারা জীবিত অবস্থায় ফিরে আসবেন। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই আশা ফিকে হয়ে আসে।
বন্যার পাঁচ দিন পর রাজ কুমারের ভাতিজা অবিনাশ নাওয়ালপুরে ভেসে আসা একটি মানুষের হাত দেখতে পান। হাতটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে তিনি মনে করেন, এটি তার চাচার হাত হতে পারে। পরে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে হাতটির ছবি আমৃত দিয়ালিকে পাঠান।
রাজ কুমারের ভাই আমৃত জানান, ছবিটি দেখার পর তারও মনে হয়েছে হাতটি তার ভাইয়ের। আঙুল ও নখের আকৃতিসহ বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রাজ কুমারের হাতের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
তবে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য মঙ্গলবার হাতটির নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার নমুনাটি বর্তমানে ১৮২তম সিরিয়ালে রয়েছে। ফলে ফল পেতে আরও সময় লাগতে পারে।
আমৃত বলেন, ‘আমরা এখন আর অন্য কিছু পাওয়ার আশা করছি না। ওই হাতটি যদি আমার ভাইয়েরও হয়, অন্তত আমরা নিশ্চিত হতে পারব।’
রাজ কুমার রাসুয়া জেলার স্যাফ্রুবেশিতে প্রায় ১৫ বছর ধরে গয়নার ব্যবসা করতেন। ওই এলাকায় তিনিই ছিলেন একমাত্র গয়না ব্যবসায়ী। ব্যবসা ভালো চলছিল।
বন্যার সময় রাজ কুমারের ভাতিজা শচীন খাতি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। বন্যার মাত্র কয়েক মিনিট আগে রাজ কুমার তাকে চিলিমেতে বন্ধক রাখা গয়না পৌঁছে দিতে পাঠিয়েছিলেন। শচীন গয়না পৌঁছে দিয়ে ফেরার সময় দেখেন, পানির প্রবল স্রোতে পুরো গ্রাম ভেসে গেছে।
রাজ কুমারের বোন রমা দিয়ালি বলেন, ‘তারা শুধু উৎসবের সময় বাড়িতে আসত, এরপর আবার ফিরে যেত। এখনও আমরা রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকি, ভাবি কখন আমার ভাই বাড়ি ফিরবে।’
বন্যার কয়েক দিন আগে রাজ কুমার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কাঠমান্ডু গিয়েছিলেন কাপানে একটি জমি কেনার জন্য অগ্রিম টাকা দিতে। তবে জমির মালিক না আসায় চুক্তির বিষয়টি পরে করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২৪ আগস্ট ভোরে তারা রাসুয়ার উদ্দেশে রওনা হন। সেটিই ছিল ভাইয়ের সঙ্গে আমৃতের শেষ দেখা।
শেষবারের সেই স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমৃতকে। তিনি জানান, কাঠমান্ডুতে খাওয়ার পর রাজ কুমারের ছেলে তাকে বলেছিল, ‘চাচা, আমার হাত-মুখটা ধুয়ে দাও।’ শিশুটি তার ফুফু রমার কাছ থেকে দুটি মোরগ এনে দেওয়ার কথাও বলেছিল।
রাজ কুমার দ্রুত রাসুয়ায় ফিরতে চেয়েছিলেন। গোসাইকুণ্ডে যাওয়া পর্যটকদের দেওয়ার জন্য তার কাছে কিছু গয়না ও পণ্য ছিল। অর্ডারগুলো পৌঁছে না দিয়ে তিনি থাকতে চাননি। তিনি জানিয়েছিলেন, ৩০ বা ৩১ আগস্টের দিকে আবার কাঠমান্ডুতে ফিরবেন।
কিন্তু তার আগেই নেমে আসে ভয়াবহ বন্যা। এরপর রাজ কুমার, তার স্ত্রী ও চার বছরের সন্তান নিখোঁজ হন।
এখন পরিবারের অপেক্ষা শুধু ডিএনএ পরীক্ষার ফলের জন্য। স্বজনদের আশা, অন্তত রাজ কুমারের দেহের কোনো অংশের সন্ধান মিললে তারা জানতে পারবেন, ভয়াবহ বন্যার পর তার পরিবারের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল। তথ্যসূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন