প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্ট্রোক যে কোনো সময় ঘটতে পারে। তবে দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সকালে, বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর স্ট্রোকের ঘটনা কিছুটা বেশি ঘটে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত রক্তচাপ, হৃদ্স্পন্দন এবং শরীরের হরমোনের কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটে। এসব পরিবর্তন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ কিংবা রক্তনালির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য সকালে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
সকালে স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন যারা
১. উচ্চ রক্তচাপের রোগী: স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেড়ে যায়। যাদের রক্তচাপ আগে থেকেই অনিয়ন্ত্রিত, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২. ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি: দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে রক্তনালিতে চর্বি জমা, রক্ত চলাচলে বাধা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
৩. হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি: বিশেষ করে অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন বা অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন (AF) থাকলে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। জমাট বাঁধা রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছে রক্তনালি বন্ধ করে স্ট্রোক ঘটাতে পারে।
৪. যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি: রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বেশি থাকলে ধমনিতে চর্বি জমে রক্তনালি সংকুচিত হতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৫. বয়স্ক ব্যক্তি: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তনালির নমনীয়তা কমে যায় এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই বয়স্ক ব্যক্তিদের স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
৬. যারা নিয়মিত ধূমপান করেন: ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায় এবং রক্তচাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
৭. যাদের ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে: অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ বা ব্যাহত হয়। এতে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় এবং রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর সঙ্গে স্ট্রোকেরও সম্পর্ক রয়েছে।
সকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়তে পারে? ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে। যেমন:
- রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দন বৃদ্ধি পেতে পারে।
- কর্টিসলসহ কিছু হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতায় পরিবর্তন আসে।
- শরীরের স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এসব পরিবর্তন বিশেষ করে আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু সকালেই নয়, দিনের যেকোনো সময় স্ট্রোক হতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর স্ট্রোকের যেসব লক্ষণ দেখা যায়:
১. মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া: হাসতে গেলে মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া বা বাঁকা হয়ে যাওয়া।
২. হাত-পায়ে দুর্বলতা: শরীরের এক পাশের হাত বা পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা অবশ লাগা।
৩. কথা বলতে সমস্যা: কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া বা কথা বলতে না পারা।
৪. দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা: হঠাৎ এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা দৃষ্টি হারানো।
৫. তীব্র মাথাব্যথা ও ভারসাম্য হারানো: হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, হাঁটতে সমস্যা বা শরীরের ভারসাম্য হারানো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন