প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় অবস্থিত গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভুট্টা থেকে স্টার্চ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি যথাযথভাবে তরল বর্জ্য পরিশোধন না করেই বাইরে ফেলছে। এছাড়া কারখানায় স্থাপিত এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে কৃষিজমি, জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধে রতনপুর-ছাতিয়াইন আঞ্চলিক সড়কে চলাচল করা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, বমিভাবসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। অতীতে বিষয়টি নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। তাদের দাবি, সময়ের সঙ্গে দূষণের মাত্রা আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে কারখানার পাশের একটি ড্রেনে কালো রঙের বর্জ্য পানি জমে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা। এছাড়া কারখানা থেকে ট্রাকে করে পশুখাদ্য পরিবহনের সময় দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দূষণের কারণে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। দূষিত পানি পান করে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়া ও মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে আশপাশের খাল ও জলাশয়ে মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কারখানার অদূরে অবস্থিত ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। তাদের অভিযোগ, তীব্র দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টসসহ জেলার কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি আরও বাড়বে।
এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ইটিপির কার্যকারিতা যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে পরিবেশ অধিদপ্তর, হবিগঞ্জ-এর উপপরিচালক ড. ইউসুফ আলী জানান, গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টসের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ওই মামলার বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং মামলাটি বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন