প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘজলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক অস্থিরতার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বিশ্ববাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যসূচক ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রদান করেছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্টে এফএওর খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। জুলাই মাসে সংশোধিত সূচকটি ছিল ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্ট। এর মানে হচ্ছে, এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।ইউরোপে তীব্র দাবদাহ ও খরা, এশিয়ায় সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব এবং ইউক্রেন ও ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক অস্থিরতার কারণে কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে পড়েছে।এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো এক বিবৃতিতে বলেছেন, "খাদ্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধি বাজারে ঝুঁকি ফিরে আসার সতর্কসংকেত।" জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটার কারণে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।আগস্ট মাসে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ভুট্টা ও বিট থেকে চিনি উৎপাদন এবং গবাদিপশু পালনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় পাম তেল ও চিনি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।এফএওর হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সূচকটি ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।চিনির মূল্যসূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট মাসে এটি ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।এদিকে, পৃথক একটি প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে মোট শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস জুলাইয়ের হিসাবের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কমিয়ে ২ দশমিক ৯৮০ বিলিয়ন টন করা হয়েছে। নতুন এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন ২ শতাংশ কমতে পারে।এফএও বলছে, এই পতন ২০১৮ সালের পর বার্ষিক উৎপাদনে সবচেয়ে বড় কমার ঘটনা হতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে শস্য সরবরাহে বিঘ্ন এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে সারের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়া বৈশ্বিক খাদ্যবাজারের জন্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন