প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পূজা-অর্চনা, কীর্তন এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তিন দিনব্যাপী ৫২তম মহাত্রিপুরারী কৈলাশপতির মহাস্নানযাত্রা উৎসব। প্রতিবছর ঝুলনযাত্রা থেকে রাখিপূর্ণিমার মধ্যে যে সোমবার তিথিতে এ উৎসব পালন করা হয়, তা দেশের ও মানুষের শান্তি-মঙ্গল এবং শিবঠাকুরকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়।
এ উৎসবকে ঘিরে দিনাজপুর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। ইতোমধ্যে পুণ্যজল সংগ্রহ করে ভক্তরা শ্রী শ্রী গোষ্ঠধাম প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়েছেন।
শনিবার দিবাগত রাতে বাস ও ট্রাকযোগে প্রায় ৩৪ মাইল দূর থেকে বীরগঞ্জ উপজেলার মহুয়াগাঁ গ্রামের শ্মশানঘাট মন্দিরসংলগ্ন পুনর্ভবা নদীর উত্তরমুখী প্রবাহিত জল সংগ্রহে যায় হাজার হাজার ভক্ত-পুণ্যার্থী। সেখানে রাতভর কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার ভক্ত পানিতে নেমে পড়েন। সূর্যদেবকে প্রণাম করে তাঁরা পুনর্ভবা নদীর পানি সংগ্রহ করেন। পরে ওই জল স্থানীয় শিবমন্দিরে দিয়ে আবারও পানি সংগ্রহের কাজ করেন। পুরোহিতের মাধ্যমে সেই জলকে পবিত্র করে দিনাজপুরে নিয়ে আসেন তাঁরা।
রবিবার সন্ধ্যার দিকে ভক্তরা দিনাজপুর শহরের আনন্দসাগরস্থ শ্রী শ্রী গোষ্ঠধাম প্রাঙ্গণ থেকে শিবমন্দিরের দিকে খালি পায়ে যাত্রা শুরু করেন। এ সময় এলাকার পরিবেশ ‘বোল বম, বোল বম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিবছর মহুয়াগাঁ এলাকায় নদীতে হাজার হাজার ভক্ত-পুণ্যার্থী পুণ্যজল সংগ্রহ করতে আসেন।
অন্যদিকে, একই নিয়মে আনন্দসাগর থেকে প্রায় সাত মাইল পূর্বে কাঁউগাঁও-সাহেবগঞ্জ হাটসংলগ্ন আত্রাই নদীর উত্তরমুখী প্রবাহিত পুণ্যজলও যারা সংগ্রহ করে, তাঁরা সেখান থেকে খালি পায়ে আনন্দসাগরের মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
দুই দিক থেকে পুণ্যজল সংগ্রহের পর ভক্ত-পুণ্যার্থীরা রবিবার রাতে আনন্দসাগরস্থ শ্রী শ্রী গোষ্ঠধামে অবস্থান করবেন। সেখানে রাতভর কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা জানান, সোমবার ভোর ৪টা থেকে শুরু হবে শিবঠাকুরের মাথায় পুণ্যজল ঢালার আনুষ্ঠানিকতা। হাজার হাজার ভক্ত-পুণ্যার্থী শিবলিঙ্গের মাথায় পুণ্যজল ঢেলে পূজা-অর্চনা করবেন। সকালে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
উৎসবে অংশ নেওয়া ভক্ত রাজু বিশ্বাস, মিতনি ঘোষ এবং অনন্ত কুমার জানান, পুণ্য অর্জন এবং দেশ ও মানুষদের মঙ্গল কামনায় তাঁরা এই পূজা করেন। অন্যরা নিজেদের মনোবাসনা পূরণ, লেখাপড়ায় ভালো ফল এবং জীবনের বিভিন্ন কল্যাণ কামনায় এ পূজায় অংশ নিতে আসেন। তাঁদের বিশ্বাস, শিবঠাকুরের মাথায় পুণ্যজল ঢাললে স্বামীর আশীর্বাদ পাওয়া এবং স্বামীর মঙ্গল হয়।
দিনাজপুর বোল বম সেবা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক আগরওয়ালা জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালে দিনাজপুরের আনন্দসাগর মন্দিরে মহাত্রিপুরারী কৈলাশপতির মহাস্নানযাত্রা উৎসব শুরু হয়। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে প্রতিবছর এ উৎসব পালিত হয়ে আসছে।
তিনি জানিয়েছেন, যে কোনো মনোবাসনা নিয়ে যারা আন্তরিকভাবে শিবঠাকুরের পূজা করেন, তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হয় বলে 믿া রয়েছে ভক্তদের মধ্যে। এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর মহাত্রিপুরারী কৈলাশপতির মহাস্নানযাত্রা ও পূজার আয়োজন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন