০৪:৫৪ পি.এম
দেশের সর্বোচ্চ আদালত, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে একটি ব্যতিক্রমধর্মী তালা রয়েছে। এর ভেতরে সযত্নে রাখা হয়েছে কয়েকশ’ চাবি।
প্রযুক্তির এই যুগের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। স্মার্ট লক, ডিজিটাল অ্যাক্সেস, বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ এবং কার্ডভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়েও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রাঙ্গণে একটি ব্যতিক্রমী নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে বিরাজ করছে বিশাল আকৃতির একটি তালা।
এটি আসলে সাধারণ কোনো তালা নয়, বরং তালার ডিজাইনে তৈরি একটি বিশেষ আলমারি। এর ভেতরেই সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন দপ্তরের গতিশীলতা এবং কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকশ’ চাবি সংরক্ষিত থাকে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের নিচতলায় সোনালী ব্যাংক-সংলগ্ন প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই ডান পাশে চোখে পড়ে এই বিশাল আকৃতির তালা। প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও ৫ ফুট চওড়া এ তালা প্রথম দেখে অনেকের কাছে ধাতব শিল্পকর্ম বা নান্দনিক স্থাপনার অংশ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কাছাকাছি গেলে বোঝা যায়, এটি সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তালা-আকৃতির এই আলমারিতে সুশৃঙ্খলভাবে রাখা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শত শত চাবি। প্রধান বিচারপতির দপ্তর, আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের চেম্বার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস এবং আদালতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবিগুলো এখানেই সংরক্ষিত থাকে।
প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় এই বিশাল তালার কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নিয়ম অনুসারে প্রয়োজনীয় চাবি গ্রহণ করেন। বিচারিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত নিয়মে পুনরায় এই চাবিগুলো জমা দেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের একাধিক কর্মচারী চাবিগুলো সংরক্ষণ এবং হস্তান্তরের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে জানিয়েছেন, ‘বিশাল আকৃতির তালাটি মূলত চাবি সংরক্ষণের একটি আলমারি। প্রধান বিচারপতির দপ্তর, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের দপ্তর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসের তালা খোলার কয়েকশ’ চাবি এখানে রাখা থাকে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীরা সকালে এখান থেকে চাবি নিয়ে যান এবং বিকেল বা রাতের সময়ে আবার জমা দেন।’
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন