প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার মতো বহুমুখী সংকটের মধ্যে দেশের কৃষিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বাংলাদেশের কৃষক ফেডারেশন পাঁচ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছে। বক্তারা বলেন, কৃষি বাস্তুসংস্থান, বীজ ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদিবাসী জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে কৃষকের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
রোববার (১৯ জুলাই) পবা উপজেলা কৃষি অফিসের সভাকক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী কৃষক কর্মী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলা হয়। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের আয়োজনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষক, কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, উন্নয়নকর্মী, পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকেরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান। সভাপতিত্ব করেন রুলফা'র পরিচালক আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জনি, পরামর্শক ডা. এমএ সোবহান, কারিতাস রাজশাহীর সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান, বেলা'র রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের ট্রেনিং অ্যান্ড মনিটরিং কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ মণ্ডল এবং পবা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম।
সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক এসএম হাসিনুর রহমান। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পুরো আয়োজনজুড়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও কৃষকের অধিকারভিত্তিক বিভিন্ন স্লোগান সম্বন্ধিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি কৃষি হলেও প্রান্তিক কৃষকেরাই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকের আর্থিক সংকট বাড়ছে।
প্রশিক্ষণে কৃষি বাস্তুসংস্থান, পার্মাকালচার, বীজ ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদিবাসী জনগণের অধিকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়, কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা, কৃষিজমি রক্ষা এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় যানবাহনের ধোঁয়া ও মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টিও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, পরিবেশ ও কৃষি একে অপরের পরিপূরক। তাই টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষক, উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রশ্নোত্তর ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন