প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার তালিকায় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও পরিচিত। আখচাষিদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি প্রণোদনার অর্থ গ্রহণের তালিকার প্রথম ১৫ জনের মধ্যে তার নাম থাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
আবু সাঈদ চাঁদের কৃষক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন না উঠলেও, একজন আর্থিকভাবে সচ্ছল জনপ্রতিনিধির প্রণোদনা গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, তার পরিবার বংশপরম্পরায় আখ চাষ ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। তিনি একজন নিবন্ধিত আখচাষি হিসেবে এ সহায়তা নিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আখচাষিদের মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবে সরকারি সহায়তার অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
রাজশাহী অঞ্চলের ১৫টি সুগার মিল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে চেক গ্রহণকারীদের তালিকার প্রথম ১৫ জনের মধ্যে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রণোদনা গ্রহণের বিষয়ে আবু সাঈদ চাঁদ বলেছেন, সংসদ সদস্য হলেও তিনি একজন নিবন্ধিত আখচাষি। "আমি একজন কৃষক। আমার বাবাও কৃষক ছিলেন। কৃষক হিসেবে অন্য চাষিদের মতো আমিও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আখচাষির প্রণোদনার চেক নিয়েছি।"
চাঁদের দাবি, বাপ-দাদার আমল থেকেই তাদের পরিবার আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত। তিনি নিজেও বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন এবং রাজশাহী সুগার মিলে শত শত গাড়ি আখ সরবরাহ করেছেন। তিনি ভবিষ্যতেও আখ সরবরাহ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।
চাঁদ বলেন, "আখ চাষ, আখ সরবরাহ ও কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা পৃথক বিষয়।" সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রকৃত প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, আখ সরবরাহের বিষয়ে রাজশাহী সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে।
সচ্ছল জনপ্রতিনিধির প্রণোদনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদের আখচাষি পরিচয় নিয়ে সমর্থনমূলক বক্তব্য এসেছে, তবে প্রণোদনা গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদের কৃষক পরিচয়ের পক্ষে বক্তব্য এসেছে, কিন্তু একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তার প্রণোদনা গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
ফেসবুক ব্যবহারকারী আনিকুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "চাঁদের কৃষিকাজ তার মূল পেশা—এটি সত্য হলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিতর্ক এড়াতে তার প্রণোদনা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করা উচিত ছিল।"
মনিরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবহারকারী মনে করেন, চাঁদ কৃষক হলেও তার আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় প্রণোদনা গ্রহণের বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার মতে, ওই অর্থ যদি কোনো দরিদ্র কৃষক পেতেন, তাহলে বেশি উপকৃত হতে পারতেন।
অন্যদিকে, ইশতিয়াক হাসান রাসেল নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী চাঁদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে লেখেন, "চাঁদ যে আখ চাষ করেন, তা তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন।"
পলাশ নামের আরেক ব্যবহারকারীও চাঁদের কৃষক পরিচয়ের পক্ষে মত দেন। তিনি দাবি করেন, চাঁদ কৃষক পরিবারের সন্তান এবং তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত।
যোগ্যতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন
আখচাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনার তালিকায় একজন সংসদ সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিতর্কটি মূলত দুটি প্রশ্নকে সামনে এনেছে। প্রথমত, তিনি প্রণোদনা পাওয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছেন কি না। দ্বিতীয়ত, যোগ্যতা পূরণ করলেও একজন জনপ্রতিনিধির আর্থিক সামর্থ্য ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এ ধরনের সহায়তা গ্রহণ করা কতটা যুক্তিসংগত।
সরকারি প্রণোদনা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত উপকারভোগীদের যোগ্যতা, সহায়তা পাওয়ার শর্ত এবং তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা। এতে একজন জনপ্রতিনিধির প্রণোদনা গ্রহণের বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে, তেমনি প্রকৃত ক্ষুদ্র ও অসচ্ছল আখচাষিরা সহায়তা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন