প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ঘটেছে নারী, শিশু ও পুরুষ মিলিয়ে ২৮ জনকে অভিনব পুশইন করার চেষ্টা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোরে এই ২৮ জন ভারতীয় ভূখন্ড থেকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিতে চেষ্টা করা হয়। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সজাগতায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশে ব্যর্থ হয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি তাদের সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল বাড়িয়েছে, টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ রাখছে। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় গার্ড দিয়ে রয়েছে।
বিজিবি সূত্র থেকে জানা যায়, বিএসএফ সদস্যরা পতাকা বৈঠকে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত এলাকায় সেই ২৮ জনকে নিয়ে আসার ঘটনা মেনে নিয়েছেন। তবে বিএসএফ প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন।
নওগাঁ-১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, "রাতের অন্ধকারে ২৮ জন বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবির বাধা দেওয়ায় বিএসএফ সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এমনকি কিছু ব্যক্তিকে মারধর করেও সীমান্ত অতিক্রম করানোর চেষ্টাও করা হয়।"
তিনি আরো বলেন, "সীমান্তের আলো নিভিয়ে এবং কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে সহায়তার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আমাদের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারিনি। এমন প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্তেও জানিয়ে দিয়েছি যে, কোন অবস্থাতেই জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।"
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের ঘটনাগুলি সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করছে। তারা ভবিষ্যতে যেন এরকম পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে নজর দিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এখনও সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবুও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোররাতে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। খবর জানার পর বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অবস্থান খুঁজে বের করে এবং বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ আটকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। বিজিবির প্রতিরোধের ফলে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়। পুশইনের চেষ্টার শিকার ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন