প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনার ঈশ্বরদীতে সাবেক ছাত্রদল নেতা জোবায়ের হোসেন বাপ্পী ওরফে ‘হুপ বাপ্পী’ মাথায় ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছেন। এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি ঈশ্বরদী শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার, ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহর ও ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটক এলাকায় এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে বাপ্পীর অস্ত্র প্রকাশ্যে প্রদর্শনের কারণে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় পুলিশ অস্ত্রটি জব্দ করে এবং বাপ্পীকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাপ্পী মাথায় ও শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে লাইসেন্স করা শর্টগান নিয়ে শহরে বের হন। তার সঙ্গী ছিলেন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা এবং আরও কয়েকজন। শহরের রেলগেট এলাকায় পৌঁছলে বাপ্পী লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মেহেদী হাসানকে হত্যার জন্য হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি তার সহযোগীরা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। ভিডিওটির কারণে শহরের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বাপ্পী অস্ত্র হাতে ঈশ্বরদী থানায় প্রবেশ করলে থানার সামনেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেহেদী হাসান এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা থানার প্রধান ফটকের সামনে জমায়েত হন। তারা বাপ্পী ও সুলভ মালিথার গ্রেপ্তার দাবিতে স্লোগান দেন। একই সঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন এবং সুলভ মালিথার বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন। থানার সামনে অবস্থান নিয়ে মেহেদী হাসান বলেন, ‘রাজনৈতিক ক্ষোভের কারণে কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাপ্পী বারবার হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। আজ প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে তিনি শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রতিপক্ষের প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে এই অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাকে হত্যার হুমকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বাপ্পী এবং সুলভ মালিথার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, বাপ্পী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। দলীয় গ্রুপিং এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে বিরোধটি আরও তীব্র হয়েছে। তবে বাপ্পীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি মাদক এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানাতেই মাথায় কাফনের কাপড় জড়িয়ে প্রকাশ্যে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র নিয়ে থানার কাছে অবস্থান নিয়েছিলেন। কাউকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য তার ছিল না। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার বলেন, ‘জোবায়ের হোসেন বাপ্পীর কাছে থাকা অস্ত্রটি তাঁর লাইসেন্সকৃত। কিন্তু তিনি আইন ভঙ্গ করে শহরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছেন এবং এতে জনসাধারণের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে এবং অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোলাম রাব্বী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া ও হত্যার হুমকির ঘটনায় ঈশ্বরদী শহরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন