শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৬ পি.এম
বরিশাল নগরীর একটি মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ঘটেছে নগরীর সিএন্ডবি রোডের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া তেমাথা এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল মিল্লাত মডেল মাদ্রাসায়।
শনিবার দুপুরে এই বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মাদ্রাসার পরিচালক শফিকুল ইসলাম বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না।
কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাদ্রাসায় গেলেও সেখানে পরিচালক শফিকুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মাদ্রাসায় আসেন। সেখানে এসে তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরিচালকের অনৈতিক আচরণের অভিযোগের কথা শোনেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ওই অভিভাবক আরও বলেন, মাদ্রাসা ভবনের বাড়িওয়ালার সঙ্গেও তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। বাড়িওয়ালা দাবি করেছেন, পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্ধ্যার মধ্যে তাকে উপস্থিত হতে বলেছেন। অন্যথায়, মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বাড়িওয়ালা।
মাদ্রাসার শিক্ষক মো. বায়জিদ মন্তব্য করেছেন, শিক্ষার্থীরা শিশু এবং অভিভাবকেরা তাদের শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের ওপর আস্থা রেখে মাদ্রাসায় পাঠান। তিনি বলেন, "কোনো শিক্ষক অনৈতিক বা অনৈসলামিক আচরণ করলে তার নেতিবাচক প্রভাব শিশুদের ওপর পড়তে পারে।"
অভিযোগকারী এক শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষককে সম্মান করার কারণে এবং পরিবেশের কথা চিন্তা করে সে বিষয়টি প্রথমে কাউকে জানাতে সাহস পায়নি। অন্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, এমন ঘটনার শিকার হলে তার মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত লাগত।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মসজিদ কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে যশোরের বাঘারপাড়ায় যুবদল নেতা রুবেল হাসান (৩৯) খুন হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে আসিফ হোসেনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আসিফ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কারণ হিসেবে মসজিদ কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শনিবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বাঘারপাড়ার খাজুরা ক্যাম্প পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে আসিফ হোসেন ছাড়াও রাব্বি হোসেন (২০), মারুফ হোসেন (২৩) ও সামিনুরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি বার্মিজ চাকু ও ছোট আকৃতির একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আসিফ হোসেন শুক্রবার সন্ধ্যার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কোন্দলের জের ধরে রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুলাই বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা তেল পাম্পসংলগ্ন যশোর-মাগুরা মহাসড়কে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল হাসান।
গ্রেফতার চারজনের মধ্যে সামিনুর ছাড়া বাকি তিনজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। রাব্বি হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ৬টি বসতঘর সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে শহরের ভেদভেদী মুসলিম পাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন যে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতে স্থানীয়রা আয়েশা বেগমের ঘরে আগুন দেখতে পান। এই সময় বাতাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের অন্যান্য কয়েকটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। পরে তারা এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
রাঙামাটি ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান জানান, উদ্ধার অভিযানের সময় তারা জ্বলন্ত ঘর থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করেন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আয়েশা বেগম বলেন, "রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। কিন্তু কীভাবে আগুন লেগেছে, কেউ বুঝতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের অনেক মূল্যবান মালামাল পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কিছু উদ্ধার করেছেন। কিন্তু আগুনে প্রায় ২ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ মারা অবস্থায় যে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি গাজীপুরে ফিরছিলেন জমি বিক্রির টাকা নিয়ে। সেই জমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলেন ইসমাইল হোসেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেই টাকা ‘খোয়া গেছে’ বলে তারা জানাচ্ছেন।
তিনি পথে কোনো একটি স্থানে নিখোঁজ হয়ে যান; পরে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পুলিশ কর্তৃক দেওয়া খবরে তার স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন। খবরটি বিডিনিউজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর এবং তিনি জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তার পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ইসমাইলের একমাত্র মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। সেজন্য জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে গাজীপুরে ফিরছিলেন তিনি। ফিরেই মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা ছিল তার।
ইসমাইলের ছেলে হাসান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ শনাক্ত করেছেন এবং জানিয়েছেন, তার বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিল; যেগুলো ‘পাওয়া যায়নি’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। তখন মরদেহের মুখে টেপ মারা ছিল এবং পরনে ছিল অটোরিকশা চালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি নিরাপত্তা ক্যামেরার আওতায়। তবে সেখানে কীভাবে মরদেহটি এলো তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার পরে বলেন, আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ইসমাইল একটি কারখানায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন, কিন্তু ৯ মাস আগে অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দেন। চাকরি ছাড়ার পরেও গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন।
কিন্তু চার মাস আগে জামালপুরে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান, যেখানে তার মা ও বড় বোন বাস করেন। হাসান জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে জামালপুর থেকে রওনা হয়েছিলেন তিনি। রাত ১১টার দিকে বাবা আমাকে ফোনে জানান, সকালে তিনি এসে পৌঁছাবেন। আমার ছোট বোন শারমিনের বিয়ের কথা-বার্তা চূড়ান্ত করতেই বাবা ঢাকায় আসছিলেন। এসেই দিন তারিখ ঠিক করার কথা ছিল।’
মেয়ের বিয়ের জন্য গ্রামের ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন বলেও তথ্য দেন নিহতের ছেলে হাসান। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে আগের ২ লাখ টাকার ঋণ শোধ করেন। কিছু টাকা দিয়ে গ্রামে একটি ঘর দেন। বাকি ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে এবং কিছু বাজার করে গাজীপুরে আসছিলেন তিনি। সাথে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোনও ছিল, কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি।’
সকালে ইসমাইলের গাজীপুরের জিরানীতে নামার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী ছেলে সকালে জিরানীতে গিয়ে বাবাকে অনেকবার ফোন দিয়েও বন্ধ পান। পরে বনানী থানা থেকে বিষয়টি জামালপুর পুলিশকে জানানো হয়। সেখান থেকে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ পান ছেলে।
বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, লাশটি ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এসআই নজরুল বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর গাড়িতে করে এনে লাশটি ফেলে গেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ