প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নওগাঁ সদর হাসপাতালে সরকারি স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইর থেকে কিনতে বাধ্য করার বিষয়টি জানতে পারেন। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে হঠাৎ করে হাসপাতালটিতে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই অনিয়মের প্রমাণ পান।
মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলায় তিনি এক নার্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই সময়ে মন্ত্রী ওই রোগীকে বাইর থেকে কেনা স্যালাইনের ২০০ টাকা ফেরত দেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ফার্মেসি, রান্নাঘর এবং শৌচাগার ঘুরে দেখেন। তিনি সরাসরি ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ডাক্তার দ্বীন মোহাম্মদ সোহেল নামে এক চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরকারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ ও স্যালাইন কিনতে বলার বিষয়টি বরদাস্ত করা হবে না। এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে বহু লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, দেশব্যাপী নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনিয়মের প্রমাণ পেলে জরিমানাসহ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হচ্ছে।
এ সময় তিনি দেশের জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোর সেবা বৃদ্ধিতে ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ডায়ালাইসিস সুবিধা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে চলছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের বিষয়টি জানা পেয়ে হাসপাতালে আসেন নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং হাসপাতালের সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন