প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ভয়াবহ হামলার পর এটি ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন। ওই হামলার পর ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এর ফলে গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
জনমত জরিপগুলোতে যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত খণ্ডিত হওয়ায় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় যেকোনো রাজনৈতিক দল ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
ধারাবাহিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ৭ অক্টোবরের হামলা ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে নেতানিয়াহুকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জনসমর্থন থাকলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রতি ইসরাইলিদের আস্থা কমে গেছে।
এছাড়া ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের নীতি অনেক ইসরাইলির কাছে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা এই নেতা রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে টিকে থাকার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে দক্ষ। তার বিরোধীপক্ষ ক্ষমতায় ফেরার জন্য স্পষ্ট পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
যেভাবে গঠিত হয় ইসরাইলের সরকার
ইসরাইলের নির্বাচন ব্যবস্থা সংসদীয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্যদের নির্বাচন সাধারণত প্রতি চার বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যদিও ইসরাইলের ইতিহাসে বেশিরভাগ পার্লামেন্টই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরাইল স্বল্পস্থায়ী সরকার এবং ঘন ঘন নির্বাচনের চক্রে আটকা পড়ে। একই বছর নেতানিয়াহু সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদীয় আসন নিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয় ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম কট্টর ডানপন্থি সরকার।
ইসরাইলে জাতীয় ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের আসন বণ্টন করা হয়। কোনো দলকে নেসেটে আসন পেতে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ (অন্তত চারটি আসনের সমান) পেতে হয়।
দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। একাধিক দলের জোট গঠন করে সরকার পরিচালনার ফলে জোটের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে সরকারের পতন ঘটে।
এ কারণে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এবং সরকার কতদিন টিকবে, তা নির্ধারণে ছোট ছোট দলগুলো বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে প্রায়ই বিভিন্ন ছোট দলের দাবির সঙ্গে একমত হতে হয়।
নেতানিয়াহুর জোটে ধর্মীয় দলগুলোর প্রভাব
রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থি ইহুদি দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এসব দলের অন্যতম দাবি ছিল, তাদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অব্যাহতি দেয়া। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় এ বিষয়টি ইসরাইলে আরও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
নেতানিয়াহুর জোটে রয়েছে তার নিজস্ব ডানপন্থি লিকুদ পার্টি, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টি এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থি জিউইশ পাওয়ার পার্টি।
এছাড়া চরমপন্থি ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস ২০২৪ সালে সরকার থেকে বেরিয়ে গেলেও পরোক্ষভাবে সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে।
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?
বর্তমান যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তাদের মধ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদের জোট ‘টুগেদার’ এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল আওয়ার হোম উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্বকারী চারটি দল—হাদাশ, তাল, রাম ও বালাদ এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়াইর গোলানের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টি নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন