প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা শহরের যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাগুলোর তদন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করে বিচারের কার্যক্রম শেষ করার কথা বলেছেন জাতীয় অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রবিবার যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারে সরকারি আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের নিয়ে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় এই গণশুনানি পরিচালনা করে।
গণশুনানির সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী, যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু এবং বিএনপি নেতা ফেরদৌস হোসেন রনি। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বহু মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন।
গণশুনানিতে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত লোকজন তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং বিচার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পরিস্থিতিতে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের দাবি, প্রতিশোধ নয়— আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এইসময় শহীদ পারভেজের মা কানিজ ফাতেমা বলেন, "৫ আগস্ট আমার ছেলে শহীদ হয়। সন্তানের হত্যার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি শুধু আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই।" শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওনের বাবা মো. বাসির আলম জানান, "বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ বহন করার মতো কষ্ট পৃথিবীতে আর কিছু নেই। যারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।" শহীদ সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম বলেছেন, "আমার বুক খালি হয়ে গেছে। আমি শুধু সন্তানের হত্যার বিচার চাই।" শহীদ মো. শাকিবের মা হেলেনা বলেন, "আমার সন্তানের মতো সব শহীদের হত্যার বিচার হোক।"
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ীর ঘটনাও রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচার সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে।" তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের জন্য নির্দেশ দেন, যাতে একই সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।
আমিনুল ইসলাম শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, "হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রত্যেক শহীদ ও আহত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল আন্তরিকভাবে কাজ করছে।" এছাড়াও, যাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য এবং প্রমাণ রয়েছে, তাদের কাছে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন, "গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে একাধিক মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্তে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজ বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করেছে।" তিনি গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছেও জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন