প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জনগণের কাছে আরো নির্ভরযোগ্য এবং আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জনবান্ধব হওয়া প্রয়োজন, যা দুর্নীতি এবং হয়রানিমুক্ত হবে।
করদাতারা যেন এনবিআরকে ভয় না করেন, বরং তাদের বিশ্বাস করতে পারেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথাগুলো বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা, কারো প্রতি বিরূপ মনোভাব অথবা রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা কারণে অতীতে এনবিআর প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এনবিআরের পুনরুজ্জীবনের সময় এসেছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতারা চাচ্ছেন যে, এনবিআর তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। দক্ষ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এর মাধ্যমে এই জনআস্থা অর্জন করা সম্ভব।
করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এনবিআরের কর্মকর্তাদের নিতে হবে।
বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব ব্যবস্থাকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তন, নতুন ব্যবসায়িক মডেল এবং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক করব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ট্রেড ফাইন্যান্স, আর্থিক অপরাধ, মানি লন্ডারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।
দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এবং করভিত্তির সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সক্ষমতার তুলনায় ট্যাক্স-জিডিপির হার এখনো অনেক কম।
করভিত্তিও তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক। সীমিতসংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে করদাতা এবং রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক যেমন তারা আরো শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, আধুনিক কর প্রশাসনের লক্ষ্য হলো শুধু বেশি কর আদায় করা নয়, বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। যারা নিয়মিত কর দেন, রাষ্ট্রকে তাদের সম্মান করতে হবে। তেমনি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন, তাদেরও যথাযথভাবে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
কর ব্যবস্থাপনা সহজ এবং হয়রানিমুক্ত করার উপর গুরুত্ব রেখে তিনি বলেন, কর আদায়ের পদ্ধতি এভাবে তৈরি করতে হবে যেন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়ানো রাজস্ব বৃদ্ধি করার একটি টেকসই পদ্ধতি নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনতে হবে।
এ জন্য তিনি ডিজিটাল এবং ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ডাটাভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কোনও বিকল্প নেই।
ভ্যাট ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আধুনিক অর্থনীতিতে ভ্যাট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস হিসেবে আছে। কিন্তু এর সফলতা কার্যকর বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করে। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট অথবা আয়কর আদায় শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ বা এনফোর্সমেন্টের বিষয়ের না। রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রতি করদাতাদের আস্থা এবং বিশ্বাস তৈরি করা গেলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হবে। তাই দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এনবিআরকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেটিকে মানুষ ভয় করবে না, বরং বিশ্বাস করবে।
প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের কর্মকর্তাদের বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠান এবং দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলা। প্রত্যেক মানুষের অবদানকে সম্মানসহ দেখতে চায় সরকার।
এনবিআরের অভ্যন্তরে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ‘দুঃখজনক ঘটনা’ এর প্রসঙ্গ তুলে উল্লেখ করেন, সমস্যা আছে এবং সমস্যা থাকবেই। আলোচনা করে ধীরেধীরে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সরকারের দায়িত্বে থাকা সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে নিরাপদ এবং স্বস্তির পরিবেশে দেশ গঠনে কাজ করতে পারেন, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকার অগ্রাধিকার দেবে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিহারের চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে এবং যাতে সকলেই স্বস্তিতে কাজ করতে পারেন সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
রাজস্ব আহরণে সাম্প্রতিক ইতিবাচক প্রবণতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল। এটি প্রমাণ করে, এনবিআরের কর্মকর্তারা পারেন এবং তারা এমন আরো ভালো করতে পারবেন।
তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সবার দেশপ্রেম এবং আন্তরিকতা প্রয়োজন। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
আরো সমৃদ্ধ, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর সফলতা কামনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন