প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ : একটি মহাকাশ স্টার্টআপ চীন বুধবার সকালে সফলভাবে ভূমিতে উদ্ধার করেছে একটি রকেটের প্রথম ধাপ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে দেশটির জন্য এ প্রথম সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এছাড়া পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এটিকে একটি ‘অগ্রগতি’ হিসেবে দাবি করেছে। চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ কর্মসূচিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই লক্ষ্যকে ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানাচ্ছে, স্টার্টআপ ল্যান্ডস্পেসের তৈরি ঝুকু-৩ রকেটটি স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের দোংফেং বাণিজ্যিক মহাকাশ উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক অঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। রকেটটির প্রথম ধাপ, অর্থাৎ রকেটের নিচের অংশটি, সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি বেইজিং থেকে এটি নিশ্চিত করেছে। সিনহুয়া জানায়, এটি ‘মসৃণভাবে অবতরণ’ করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, রকেটের প্রথম ধাপটি ধীরে ধীরে মরুভূমির একটি অবতরণস্থলের দিকে নেমে আসে এবং এ সময়ে এর প্রসারণযোগ্য পাগুলো খুলে যায়, যা পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত স্থানে অবতরণ করে।
সিনহুয়া জানাচ্ছে, প্রথম ধাপের ওপরের অংশে থাকা রকেটের দ্বিতীয় ধাপটি হংহু-০৩ স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে পাঠায়। সংস্থাটি এ অভিযানকে ‘সম্পূর্ণ সফল’ বলে অভিহিত করেছে।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ল্যান্ডস্পেসই প্রথম কোম্পানি, যারা কক্ষপথে ব্যবহারের উপযোগী রকেটের বুস্টার তাদের নিজস্ব পায়ের ওপর দাঁড় করিয়ে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ ও অধ্যাপক রিচার্ড ডি গ্রেইস বলেন, ‘ল্যান্ডস্পেসের সফল অবতরণ চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক।’
জুলাইয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি লং মার্চ-১০বি ক্যারিয়ার রকেটের প্রথম ধাপ সমুদ্রভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে উদ্ধারের মাত্র এক মাস পর এই সাফল্য এসেছে।
ডি গ্রেইস আরও বলেন, ‘চীন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বাণিজ্যিক উভয় মহাকাশ খাতের মাধ্যমে দু’টি ভিন্ন ধরণের রকেট পুনরুদ্ধার পদ্ধতি প্রদর্শন করেছে।’
তিনি উপসংহার টেনেছেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই সমন্বয় চীনকে কম খরচে এবং আরও ঘন ঘন উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে, যা পরিকল্পিত বিশাল স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডলের জন্য প্রয়োজন।’
সিনহুয়া জানাচ্ছে, ঝুকু-৩ রকেটটি চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়েছে এবং এটি কম খরচে, আরও বেশি সক্ষমতা এবং ঘন ঘন উৎক্ষেপণের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন