প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু পরিবর্তন এবং মারাত্মক উদ্ভিদ রোগের আক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়ে কলা চাষ বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, ক্যাভেন্ডিশ জাতের কলা বর্তমানে অস্তিত্বের জন্য লড়াই করলেও সংকট কাটিয়ে ফলটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য নতুন আশার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বিশ্বের জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে টমেটোর পরেই কলার অবস্থান রয়েছে। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ টন কলা উৎপাদিত হয়।
কলার এক হাজারের বেশি জাত বিদ্যমান, কিন্তু বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষের ফলের পাত্রে মূলত ক্যাভেন্ডিশ জাতের কলাই দেখা যায়। ১৯৫০-এর দশক থেকে পানামা রোগের কারণে ‘গ্রোস মিশেল’ জাতের কলা হারিয়ে যায়। এরপর বাজারে এই ‘ক্যাভেন্ডিশ’ জাতটি দখল করে নেয়। এই সময় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এই কলা মূলত প্রজননে অক্ষম ক্লোন হওয়ায় সব গাছের জিন একই এবং রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও সমান।
বর্তমানে ক্যাভেন্ডিশ জাতটি ট্রপিক্যাল রেস ৪ বা টিআর৪ নামক রোগের হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। নরউইচের আর্লহ্যাম ইনস্টিটিউটের ফসলের জিনোমবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. হোসে দে ভেগা জানান, এই রোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ছড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকায় পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবরটি আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, বিশ্বের শীর্ষ কলা রপ্তানিকারক দেশ ইকুয়েডর থেকে।
ড. ভেগার মতে, এই রোগ বিশ্বজুড়ে কলার সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য একটি বড় হুমকি। গুয়াতেমালা থেকে মালাবি পর্যন্ত চাষিরা এই প্রভাবে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তবে এই বিপর্যয় ঠেকাতে গবেষকরা নতুন সাফল্যের দাবি করেছেন।
শীর্ষস্থানীয় কলা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চিকুইটা এবং ফসল উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা কি-জিনের যৌথ গবেষণা উদ্যোগ ‘ইয়েলোওয়ে’ জানিয়েছে, তারা প্রজননক্ষম ক্যাভেন্ডিশ কলার একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মাধ্যমে সংকরায়ণের সাহায্যে রোগ প্রতিরোধী এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নতুন জাতের কলা তৈরির পথ প্রশস্ত হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন