প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ, চালকদের দক্ষতা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করে সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), যাতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ রাজধানীতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে এই আহ্বান করা হয়। নিসচার উদ্যোগে সকাল ১১টায় কাকরাইলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে নিসচার উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সাইকেল লেন, নিসচার মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, ধামরাই, পলাশ, নারায়ণগঞ্জ, লৌহজং, শিবপুর, সাভার ও ঠাকুরগাঁও শাখার প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইন মেনে চলা, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য ঘটনা নয়। পরিকল্পিত উদ্যোগ, বিদ্যমান আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সড়ক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত ও সমন্বিত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
নিসচার পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা আইন ও বিধির কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, ভুল পথে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও ফিটনেসসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
চালকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার মান এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার সুপারিশ করেন নেতৃবৃন্দ। ক্লান্তি ও অদক্ষতার কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে চালকদের শারীরিক সক্ষমতা, বিশ্রাম ও কর্মঘণ্টার বিষয়েও নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী সব ধরনের গাড়ির নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং ত্রুটিপূর্ণ ও অনুপযোগী যান চলাচল বন্ধে ধারাবাহিক নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। দিবসটি উপলক্ষে নিসচা দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সড়ক আইন মেনে চলা, নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার এবং সড়কে অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন