প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী-২ আসনের এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মচারীর অনুপস্থিতি দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন চিকিৎসককে শোকজের নির্দেশ দেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনে যান। দীর্ঘ ৩৫ মিনিট অপেক্ষার পর তিনি মাত্র দুজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে উপস্থিত পান।
হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক শনিবার সকালে হঠাৎ হাসপাতালটি পরিদর্শনে আসেন। প্রথমে তিনি জরুরি বিভাগের খবর নেন এবং দেখেন সেখানে ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। তবে হাসপাতালের অন্যান্য চেম্বারগুলো তখন খালি ছিল এবং অন্য কোনো ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। এর কিছু সময় পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডাক্তার রাদিয়া সুলতানা হাসপাতালে আসেন।
এমপি জয়নুল আবদিন ফারুকের উপস্থিতির সময় সকাল ৯টা থেকে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত আর কোনো ডাক্তারকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তিনি অনুপস্থিত ১৭ জন চিকিৎসককে শোকজের নির্দেশ দেন। শোকজের চিঠির অনুলিপি সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সরকারি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরফানুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা. রাদিয়া সুলতানাকে মোবাইল ফোনে বার বার কল করা হলেও তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করেননি। পরে একবার ফোন রিসিভ করে এমপি জয়নুল আবদিন ফারুকের পরিদর্শনে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সংখ্যা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অনুপস্থিত কর্মচারীদের বিষয়ে কোনো তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন। এরপর ফোন করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এমপির পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. এরফানুল হক চৌধুরী। শনিবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘এমপি মহোদয়ের পরিদর্শনের সময় বিপুল সংখ্যক চিকিৎসকের অনুপস্থিত দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অনুপস্থিত সব চিকিৎসক শোকজের নির্দেশ দিয়েছেন।’ তিনি জানান, এদিন বিকেল পর্যন্ত শোকজের অনুলিপির কপি তিনি পাননি।
এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক নিশ্চিত করেছেন যে, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে তাদের শোকজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলায় সব চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে এবং শোকজের চিঠির অনুলিপি সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সরকারি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শোকজের বক্তব্যের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন