প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের সরকারি হাসপাতালে ‘রোগীকে’ মাদকের চালান দিতে গিয়ে হাতেনাতে ১৭ হাজার ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন সেই ‘রোগী’, যার কাছে ইয়াবা পৌঁছানোর কথা ছিল, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত মাদক পাচারের কৌশল, যেখানে জনসমাগমপূর্ণ হাসপাতালে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার পর পুলিশ পুরো চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে রোগীদের আনাগোনার মধ্যে অসংখ্য নীল প্যাকেট সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। একে একে প্যাকেটগুলো খুলে বের করা হয় ইয়াবা। প্রতিটি প্যাকেটের মধ্যে ছিল ৯০ থেকে ১০০টি করে ইয়াবা ট্যাবলেট। আটক স্বামী-স্ত্রীর সামনেই পুলিশ এসব ইয়াবা গণনা করে পুনরায় প্যাকেটজাত করে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ দেখে উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হয়ে ওঠেন।
পুলিশ জানায়, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং থেকে সিএনজিযোগে স্বামী-স্ত্রী মিলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে কৌশলে চালান দিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসে। বিকেল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের একাধিক টিম অবস্থান নেয়। টানা বৃষ্টির মধ্যেও চলছিল নজরদারি। পরে রাতে সদর হাসপাতালে পৌঁছামাত্র অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় জব্দ হয়ে যায় ১৭ হাজার ইয়াবা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে যে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ‘রোগী’র কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতেই এসেছিলেন ওই স্বামী-স্ত্রী। হাসপাতালকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ নারী যাত্রী আটক
কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী বলেন, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং এলাকা থেকে একটি সিএনজি যোগে স্বামী-স্ত্রী দু’জন ইয়াবা নিয়ে সদর হাসপাতালের দিকে আসছিলেন–এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি জানান, বিকেল ৪টায় বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে একাধিক টিম অবস্থান নেয়। পরে সিএনজিটি সদর হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন আয়েশা আক্তার ও জাগির।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন ‘রোগী’, জোবায়ের (প্রকাশ ফরিদ), এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। তবে অভিযানের পর জোবায়ের (প্রকাশ ফরিদ)-কে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। তারা হাসপাতালকে ব্যবহার করে কৌশলে ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতাভুক্ত। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ইয়াবা লেনদেনে স্বামী-স্ত্রী আটক হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন সাজ্জাদ বলেন, ‘হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং রোগীদের ব্যবহার করে যদি কেউ মাদক কারবার পরিচালনা করে, তাহলে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক বিষয়। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।’
অভিযানে আটক জাগির হোসেন ও আয়েশা বেগম, দু’জনেরই টেকনাফের হ্নীলা এলাকার নয়াপাড়ার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন