প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। ব্রিজটিতে ওঠার জন্য নিচের দিকে মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে এবং সেখানে মই বসানো হয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষকে এই মই বেয়ে ব্রিজ পারাপার হতে হচ্ছে।
গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের মাঝপথ কাওরাইদে সুতিয়া নদী পার হওয়ার জন্য এই ব্রিজটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অভিনব ঘটনার খবর জানার পর জানা যায়, ৯ কোটি টাকার ব্রিজটি এখন স্থানীয়দের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সাধারণ মানুষ এটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে প্রতিদিন মাটি ও মই বেয়ে ব্রিজ পার হতে হচ্ছে।
সুতিয়া নদীর ওপর ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল ব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সংযোগ সড়ক থেকে ব্রিজটির উচ্চতা ১৫ ফুট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে খাড়া ঢাল পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ব্রিজটির মাধ্যমে একাধিক প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চলাচল করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জুরুল করিম জানান, "পুরো ব্রিজের কাজ কমপ্লিট হয়ে গেছে। এখন শুধু সংযোগ সড়কের জন্য সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে এখান দিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। এটা তো ঝুঁকিপূর্ণ, দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। প্রায় সব শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ এখান দিয়ে যাতায়াত করেন। বৃষ্টি হলে ব্রিজ দিয়ে চলাচল খুব কষ্টকর হয়।"
শিক্ষার্থী নাসরিন বেগম বলেন, "আগে অনেক উঁচু ছিল, রডের মতো কিছু দেওয়া ছিল, সেখান দিয়ে সেতুতে উঠতাম। এখান দিয়ে আমরা চলাচল করতে পারতাম না। এখন মাটি দেওয়া হয়েছে, মই দেওয়া হয়েছে। তবে এ রাস্তার বিকল্প আছে রেলওয়ে সেতু। সেখান দিয়ে চলাচলও তো খুব ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ব্রিজটির কাজ শেষ করা হলে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হতো।"
গাজীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, "বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রকল্পটি অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার। এখানে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থের সংস্থান ছিল না। তবু সীমাবদ্ধতার বাইরে আমরা ব্রিজটি করে ফেলেছি। অধিগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দ্রুত আসবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন