প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী অর্থবছর থেকে করদাতারা সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন। তবে নির্ধারিত সময়ে আগে রিটার্ন দাখিল করলে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, যদি দেরিতে রিটার্ন দাখিল করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা, যা কম, সেই পরিমাণ কর ছাড় পাবেন।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত কর ছাড় বা জরিমানা থাকবে না। এই সময়ে করদাতাদের জন্য কেবল নির্ধারিত কর পরিশোধ করলেই যথেষ্ট হবে।
কিন্তু তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রিটার্ন দাখিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা, যা বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এছাড়া, অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রিটার্ন দাখিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।
করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এবং কর প্রশাসনকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তথ্য জানানো হয়েছে, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে। পঞ্চাশ বছরের অধিককাল ধরে চলমান এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
এই বিশাল বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
নতুন এই বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন