প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার হেদায়েতুল ইসলাম, যিনি মানিক হুজুর নামে পরিচিত (৬৫), ওমরাহ হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি সেখানে টানা ৩ বছর তিন মাস হাসপাতালের শয্যায় ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ১৩ মে দেশে ফেরার পর স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হলেও তাকে আর সুস্থ করে ঘরে ফেরানো সম্ভব হয়নি। গত সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মৃত হেদায়েতুল ইসলাম পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক কন্যাসন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে মানিক হুজুর সৌদি আরব যান। মক্কায় কয়েক দিন অবস্থানের পর ১২ ফেব্রুয়ারি মদিনায় ফজরের নামাজ আদায়ের সময় দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মসজিদের ফ্লোরে পড়ে যান। এরপর তাকে মদিনার কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৪-৫ মাস সিসিইউ ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রায় ৩ বছর তিন মাস তিনি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরিবারের দাবি, এই সময়ে তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। সূত্র আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। সর্বশেষ তার মেজো ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। পরে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ হজ মিশন এবং সৌদি সরকারের সহযোগিতায় গত ১৩ মে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
দেশে ফেরার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। আবুল কালাম নামে এক প্রতিবেশী বলেন, ‘একদম সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওমরাহ করতে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অসুস্থ হওয়ায় অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালে তার সঙ্গে কেউ থাকার সুযোগ না থাকায় স্ত্রী তখনই দেশে ফিরে আসেন। এলাকার মানুষজন মাঝে মাঝে গিয়ে দেখতে যেত। তার ছেলেও সৌদি গিয়ে বাবাকে দেখে এসেছিল। টানা এত দিন একজন মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ায় সৌদি সরকার অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকারের মধ্যস্থতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও আর ঘরে ফেরা হয়নি। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
মৃত মানিক হুজুরের ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘দীর্ঘ ৩ বছরেরও বেশি সময় পর আমরা বাবাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। আশা ছিল তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তা আর হলো না। আমরা সবার কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আজ রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে বাবাকে দাফন করা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন