প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালীতে সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এবতেদায়ী মাদ্রাসা কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার তিন বছর পার হয়ে গেলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্ধেকের কম কাজ করে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। এর পাশাপাশি, দুর্যোগপ্রবণ এই এলাকার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির কাজ পায় বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রুপালি কনস্ট্রাকশন’, যা বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে এবং এলজিইডি পিরোজপুরের বাস্তবায়নে ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে। ২০২২ সালের ১ নভেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শুরুর পর অর্ধেকের কম নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কাজের অধিকাংশ বিল উত্তোলন করার পর ঠিকাদারের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। দীর্ঘসময় ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম। এ সময়, তিনি অবহেলায় পড়া ভবনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার উপায় বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে কাজী রওনাকুল ইসলাম বলেন, "এই ভবনটি এক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটিও একটি সাইক্লোন সেন্টার। তাই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগের সময় এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা এখানে এসেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
প্রকল্পের স্থবিরতা এবং এলাকার মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কথা বলেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির। তিনি বলেন, "উপকূলীয় এই এলাকার মানুষের জন্য সাইক্লোন সেন্টারটি অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের চরম অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এই উন্নয়ন প্রকল্পটি আজ থমকে গেছে, যা কোটি কোটি টাকার। আমরা আশা করি, দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত হবে এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবহেলায় পড়ে থাকা কাজ দ্রুত নতুনভাবে শুরু করে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হোক।"
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, "তিন বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন অর্ধেক হয়ে থাকবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট অনুভব করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে প্রশাসনিক আইনি জটিলতা নিরসন করে প্রকল্পের অবশিষ্টাংশ সম্পন্ন করা হোক।"
কাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, "প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও এলজিইডির সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোঃ মোস্তফা রায়হান, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান লিকসন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মাহমুদ সুমন এবং রঘুনাথপুর এবতেদায়ী মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মোঃ সোলায়মানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন