প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের সিকিমের নামচি জেলার সমারডুং এলাকায় এনএইচপিসির তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে। সিকিম প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, সুড়ঙ্গে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ও ধসে চাপা পড়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ১৩ জনের মরদেহ বের করে এনেছেন। বাকি ৭ জনের মরদেহ সুড়ঙ্গের ভেতরে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
এ ঘটনায় দুর্ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে মোট ২৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে শ্রমিকদের দুপুরের খাবার খাওয়ার বিরতি চলাকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক ধস ও বিস্ফোরণের মুখে পড়ে কেবল দুজন শ্রমিক কোনোক্রমে বাইরে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। সুড়ঙ্গের গভীর ও দুর্গম অংশে এখনো পাঁচজন শ্রমিক আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধারকারী দল এখনো তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করতে পারেনি।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের জরুরি সেবা দলের পাশাপাশি মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল। ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডের সুপারিনটেনডেন্ট অভিজিৎ কুন্ডু নিশ্চিত করেছেন যে, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে জীবিত কাউকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, ভেতরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনো ৭ থেকে ৮টি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং সেখানে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
বর্তমানে ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের যৌথ উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গে অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রেখেছে। বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের তীব্রতা এবং নতুন করে ধস নামার ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এনএইচপিসি কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো পার্বত্য অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন