প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার সমবায় আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান ‘কোতোয়ালি থানা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (কেটিসিসিএ) লিমিটেড’ বর্তমানে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছে। গত দেড় বছরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অরাজকতার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নজিরবিহীন তাণ্ডব ও লুটপাট চালানো হয়েছে। সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে, কোটি কোটি টাকার ভূমি ও দোকানপাট দখল করা হয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে বেদখল হওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং লুটপাটের ক্ষত কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সচল করা এখন নতুন পরিষদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কুমিল্লার পুরাতন অভয় আশ্রমে অবস্থিত কেটিসিসিএ লিমিটেডের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বেহাল দশা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্পত্তি উদ্ধারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একদল দুষ্কৃতিকারী ও লুটেরা কেটিসিসিএ কার্যালয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "লুটেরারা এই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের টেবিল, চেয়ার, ফ্যান, দরজা, জানালা, লোহার গ্রিল, এমনকি দেয়ালের ভেতরের বিদ্যুতের তার পর্যন্ত উপড়ে নিয়ে গেছে।" প্রতিষ্ঠানের পূর্ব দিকের সীমানা দেয়ালটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
শাহজাহান সিরাজ আরও বলেন, "বর্তমানে আক্ষরিক অর্থেই একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন পর্ষদকে কাজ শুরু করতে হয়েছে।" শুধু তাই নয়, সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজে হাত দেওয়ায় বর্তমান কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানা যায়, কেটিসিসিএ-এর সবচেয়ে বড় সংকট হলো এর বেদখল হয়ে যাওয়া স্থাবর সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠানটির বিপুল পরিমাণ জমি, বিভিন্ন স্থাপনা ও বাণিজ্যিক দোকান অবৈধভাবে জবরদখল করে রেখেছে। সমবায়ীদের স্বার্থে গড়ে ওঠা এসব সম্পত্তি থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসার কথা থাকলেও, তা চলে যাচ্ছে অবৈধ দখলদারদের পকেটে।
সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করতে না পারলে কেটিসিসিএ লিমিটেডকে কোনোভাবেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।" সমবায়ী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ সমবায়ীদের ভাগ্য ফেরাতে এই সম্পত্তি উদ্ধার করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে কেটিসিসিএ-এর উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল করতে কুমিল্লা-৬ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতার কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ।
তিনি জানান, উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল করার পাশাপাশি একই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে অন্তর্বর্তী সরকারের সমবায় মন্ত্রী ড. মঈন খাঁনের কাছে একটি বিশেষ আবেদন পেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বিশেষ সুপারিশসহ এই প্রকল্প প্রস্তাবটি অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করে চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ বলেন, "কেটিসিসিএ কুমিল্লার একটি ঐতিহাসিক গৌরব।" এই গৌরবকে টিকিয়ে রাখতে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান ও গঠনমূলক লেখনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি ভূমিদস্যুদের মুখোশ উন্মোচন এবং সমবায়ীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সমবায়ীরা জানান, প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমবায় মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে বেদখল হওয়া জমি ও দোকানপাট উদ্ধার করে দিতে পারে, তবেই ড. আখতার হামিদ খানের স্মৃতিবিজড়িত এই সমবায় প্রতিষ্ঠানটি আবার তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন