ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন ও ব্যবসায়িক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত


বেসিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন ও ব্যবসায়িক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত

বেসিক ব্যাংক পিএলসির শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন ও ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা শনিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মো. মোফাজ্জেল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্যে সম্মেলনে উপস্থিত শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপক এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালক—সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং বর্তমানে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য মুন্সি আব্দুল আহাদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহম্মেদ, আইনজীবী মো. লুৎফুর রহমান এবং অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ব্যাংকার মো. খায়রুল কবির, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক রূপ রতন পাইন।

এ সময় উপব্যবস্থাপনা পরিচালকদ্বয় সুভাষ চন্দ্র দাস, এফসিএ, এফসিএমএ, মো. হাসান ইমাম, মহাব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল, মো. মমিনুল হক, মো. নাসির উদ্দীন, সুমিত রঞ্জন নাথ, মো. গোলাম সাঈদ খান, সাইদুর রহমান সোহেল, শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপকরা এবং প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সৌর বিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, একসময় বেসিক ব্যাংক বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্যাংককে ক্রমান্বয়ে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের আমানত প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন। এই আস্থা বজায় রাখতে এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একসময় যে ব্যাংক অন্যদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করত, বর্তমানে সেই বেসিক ব্যাংক দেশীয় ও বৈদেশিক মুদ্রায় বাজারে ঋণ প্রদান করছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের সমন্বয় করতে হবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা যাবে না। বিশেষ করে বাংলা কিউআর সেবার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

খেলাপি ঋণ আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিংয়ের প্রচলিত নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করে খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। ঋণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সব নির্দেশনা কঠোরভাবে পরিপালন, কর্মক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। লোকসানি শাখাগুলোকে লাভজনক শাখায় রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকের আয় বৃদ্ধিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় ব্যাংকের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ দেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে বেসিক ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তুলনামূলক পর্যালোচনা তুলে ধরে ব্যাংকের উন্নয়নে কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি নতুন করে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি রোধ, স্বল্পসুদে আমানত সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং কমিশন আয়সহ সুদবহির্ভূত আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ ফরিদ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মহোদয়ের সভাপতিত্বে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় প্রদত্ত বিস্তারিত নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের ওপর জোর তাগিদ দেন।

আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি কাঠামোগত ফাঁদে: হোসেন জিল্লুর রহমান

সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল ব্যাংকের শাখায় সেবার গুণগত মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ব্যাংকের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুদৃঢ় করতে নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজনের পরামর্শ দেন।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুন্সি আব্দুল আহাদ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ছোট-বড় সব শ্রেণির গ্রাহককে সমান গুরুত্ব ও সম্মানের সঙ্গে সেবা প্রদান করতে হবে। কোনো গ্রাহক যেন অবহেলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি নতুন ঋণ প্রদান এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ তাগিদ দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক রূপ রতন পাইন দেশের ভালো ব্যাংকগুলোর অভিজ্ঞতা ও কার্যকর কৌশল থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে বেসিক ব্যাংকের উন্নয়নে তা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ বিতরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ব্যাংকের নতুন ঋণ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত সব সার্কুলার যথাযথভাবে পরিপালনের তাগিদ দেন।

অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মো. খায়রুল কবির দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যমান শিল্পসম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। তিনি স্থানীয় শিল্পের সম্ভাবনা বিবেচনায় ক্লাস্টারভিত্তিক পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ‘এভিয়েশন হাব’ নির্মাণের পরিকল্পনা

অভিজ্ঞ আইনজীবী মোঃ লুৎফুর রহমান ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স আহরণ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ তাগিদ দেন। তিনি খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহম্মেদ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং রেমিট্যান্স আহরণ বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি স্বল্প সুদের আমানত সংগ্রহের ওপর জোর দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মো. মোফাজ্জেল বলেন, ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন, আমানত সংগ্রহ বৃদ্ধি, ঋণ আদায় জোরদার এবং নতুন খেলাপি ঋণ সৃষ্টি রোধে শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপকদের আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ ও আদায়, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, রেমিট্যান্স আহরণ এবং আয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপকদের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, সেবার মানোন্নয়ন এবং ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: বি-স্ট্রং প্রকল্পে কেনাকাটা ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমবার দেশে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য অলিম্পিয়াড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


প্রথমবার দেশে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য অলিম্পিয়াড

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি) দেশের প্রথমবারের মতো মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বিএপি মেন্টাল হেলথ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ আয়োজন করেছে। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোরোগবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান, সচেতনতা এবং আগ্রহ বৃদ্ধি করা, সেইসাথে পেশাগত দক্ষতা জোরদার করা।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এই অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটি (বিএমএসএস) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ কুইজিং অ্যান্ড ডিবেটিং সোসাইটির (ডিএমসিডিএস) সহায়তায় এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, "ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের মানুষের কথা শোনা এবং তাদের মানসিক অবস্থার প্রতি মনোযোগী হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মানুষের জীবনের গল্প শুনে এমন পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে তারা মানসিক শান্তি ও সুস্থতা অনুভব করেন।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "সুস্বাস্থ্য বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতা বোঝায় না, মানসিক স্বাস্থ্যও এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই চিকিৎসকদের অন্যের মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি নিজেদের মানসিক সুস্থতার প্রতিও যত্নবান হতে হবে।"

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মেডিকেল এডুকেশন) অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, "মনোরোগবিদ্যায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি। সব বিভাগের রোগীদেরই কমবেশি মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে। এ ধরনের আয়োজন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের (বিএপি) সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মো. নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আইনুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

অলিম্পিয়াডে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ১৫০ জন শিক্ষার্থী তিনটি ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করেন। প্রথম ক্যাটাগরিতে পঞ্চম বর্ষের, দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের এবং তৃতীয় ক্যাটাগরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম স্থান অর্জনকারীদের ৮ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীদের ৫ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের ৩ হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কারের পাশাপাশি ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. আনিকা বসারাত ‘ক্যারিয়ার ইন সাইকিয়াট্রি’ বিষয়ে আলোচনা করেন। একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আরিফুজ্জামান ‘বাংলাদেশে বিএপি ও মানসিক স্বাস্থ্য’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ কুইজিং অ্যান্ড ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে একটি মক ডিবেট অনুষ্ঠিত হয়। অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মনোরোগবিদ্যায় ক্যারিয়ার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং এ ক্ষেত্রে পেশাগত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সূর্যের আলোয় ওয়ালটনের ফ্রিজ-এসি-টিভি চালু, উৎপাদিত বিদ্যুৎ যাবে গ্রিডে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


সূর্যের আলোয় ওয়ালটনের ফ্রিজ-এসি-টিভি চালু, উৎপাদিত বিদ্যুৎ যাবে গ্রিডে

শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের উদ্দেশ্যে ওয়ালটন একটি সমন্বিত ‘সোলার ইকোসিস্টেম’ উন্মোচন করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৌরশক্তির সাহায্যে ফ্রিজ, এসি, টিভি সহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য পরিচালনার প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার, রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে ‘ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ উদ্বোধন করেন।

ওয়ালটন জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা তাদের নিজস্ব কারখানায় ছাদভিত্তিক (রুফটপ) ও ভাসমান (ফ্লোটিং) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ একটি বড় জেলা শহরের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সমান। ওয়ালটন, নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বছরে গড়ে প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি এবং তাহমিনা আফরোজ তান্না উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর অর্থমন্ত্রী ওয়ালটনের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্যানেল, সোলার পাওয়ার কেবল, স্টোরেজ ইনভার্টার ও ব্যাটারি এবং সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভি সহ বিভিন্ন পণ্য ঘুরে দেখেন। এছাড়া, সৌরবিদ্যুৎচালিত ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, ওভেন, রাইস কুকার, বিএলডিসি ফ্যান, সোলারভিত্তিক পেডেস্টাল ও টেবিল ফ্যান, বাল্ব এবং স্ট্রিট লাইটের প্রযুক্তি ও জ্বালানিসাশ্রয়ী বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তিনি অবহিত হন।

অর্থমন্ত্রী ওয়ালটনের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্যানেল, ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভি পরিচালনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব। তিনি আশা করেন, ওয়ালটন সৌরশক্তির মাধ্যমে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সারা বাংলাদেশে সম্প্রসারিত হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, “সোলারের মাধ্যমে আগামী এক-দুই বছরে দেশে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এর ফলে কম খরচে জনগণের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কমবে। ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে।”

সৌরশক্তির বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, “সোলারের মাধ্যমে শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন থেকে শুরু করে সব ধরনের ইলেকট্রনিকস পণ্য ব্যবহার করা যাবে। আমরা আশা করছি, দেশের সব মানুষ সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।”

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম বলেন, ‘ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি সবুজ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।

ওয়ালটনের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের পাশাপাশি গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে সৌরশক্তিনির্ভর পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থা।

তিনি জানান, এ উদ্যোগ ওয়ালটনের ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও মৌলভিত্তি আরও শক্তিশালী করে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করাই তাঁদের লক্ষ্য।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থাই ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নয়; বরং বাংলাদেশেই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরা।”

ওয়ালটনের এ সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্পখাতের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, অগ্রগতি ও সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় হাইব্রিড প্রযুক্তিতে পরিচালিত হবে ফ্রিজ, এসি ও টিভি। পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে এসব পণ্য ব্যাটারি ছাড়াই সরাসরি সৌরবিদ্যুতে চলতে পারবে। সৌরবিদ্যুতের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় গ্রিড থেকে ঘাটতি বিদ্যুৎ গ্রহণ করে পণ্যগুলো চালু থাকবে। ফলে সৌরবিদ্যুতের প্রাপ্যতা অনুযায়ী গ্রিডের বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।

এ ব্যবস্থায় এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) প্রযুক্তির সমন্বয়ে সৌরবিদ্যুৎনির্ভর নতুন মডেলের ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার ও ওভেন যুক্ত করা হয়েছে। দিনের বেলায় সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার এবং বিএলডিসি ফ্যানের মতো পণ্যও পরিচালনা করা যাবে।

ওয়ালটনের ইনভার্টার ব্যাটারিতে সোলার চার্জার ও এসি চার্জার সমন্বিত থাকায় সৌরবিদ্যুৎ এবং জাতীয় গ্রিড—উভয় উৎস থেকে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে।

ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় নতুন মডেলের তাকিওন ই-বাইকে যুক্ত করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম। এতে রয়েছে স্মার্ট, পরিবেশবান্ধব ও বহুমুখী এনার্জি সল্যুশনসমৃদ্ধ ব্যাটারি।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এ প্রযুক্তির ব্যাটারি ই-বাইককে একটি মোবাইল এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমে রূপান্তর করবে। এর মাধ্যমে পরিবহন, সৌরশক্তি সংরক্ষণ এবং জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় সৌরবিদ্যুতের নিরাপদ ও স্বাভাবিক সঞ্চালন নিশ্চিত করতে ফটোভোলটাইক বা সোলার কেবলও এনেছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব কেবল অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি), আর্দ্রতা ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

সোলার কেবলে নমনীয় টিনড কপার কন্ডাক্টর ও বিশেষ ইনসুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের সুবিধা পাওয়া যাবে।

ওয়ালটনের এ সমন্বিত সোলার ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে শিল্পকারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি গৃহস্থালি পর্যায়েও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির বিস্তার বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমার চেয়ে পরিবার বেশি ভুগেছে’, দাদির মৃত্যুর আগের দিন অভিজিৎ দীপের কথা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


‘আমার চেয়ে পরিবার বেশি ভুগেছে’, দাদির মৃত্যুর আগের দিন অভিজিৎ দীপের কথা

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছিলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনে তার চেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে পরিবারের সদস্যদের। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মুম্বাইয়ে এক আলোচনায় এ কথা বলেছিলেন তিনি। এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার গ্রামের বাড়িতে মারা যান তার ৮৫ বছর বয়সী দাদি সাবিত্রীবাই শঙ্কর দীপকে। পরদিন শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে বিমানবন্দরেই আটক হন অভিজিৎ।

মারাঠি সংবাদপত্র ‘লোকসত্তা’র আয়োজনে ‘লোকসংবাদ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক আন্দোলন ও পারিবারিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

অভিজিৎ জানান, গত জুলাইয়ে দিল্লির যন্তরমন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে তার বাবা ও মা দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি তিনি প্রকাশ্যে আনেননি। তার ভাষ্য, মানুষের সহানুভূতি আদায় করতে চাননি তিনি। একই সঙ্গে বাবা-মাকে দেখতে বাড়ি ফিরে গেলে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর অভিযোগ উঠতে পারে—এমন আশঙ্কাও ছিল তার।

শনিবার হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামে মারা যান অভিজিতের দাদি সাবিত্রীবাই শঙ্কর দীপকে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। দাদির মৃত্যুর খবর পেয়ে অভিজিতের বাবা ভগবান দীপকে ও মা অনিতা গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। অন্যদিকে, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে আটক করা হয় অভিজিৎকে। দাদির শেষকৃত্যে অংশ নিতে তাকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

গ্রামের মানুষের জীবন বদলায়নি, বলেছিলেন অভিজিৎ।

নিজের শিকড়ের প্রসঙ্গ উঠলেই বারবার সান্তুক পিম্পরি গ্রামের কথা বলেন অভিজিৎ। তার বাবা প্রকৌশলী হওয়ার পর পরিবারকে নিয়ে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে চলে যান। সেখানে একটি কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন অভিজিৎ। পরে পুনে হয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে।

কিন্তু তার পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনযাত্রা খুব একটা বদলায়নি। গ্রামের আত্মীয়দের কেউ নির্মাণশ্রমিক, কেউ কৃষিশ্রমিক, আবার কেউ গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। তার এক ফুফুও এখনো মাঠে দিনমজুরের কাজ করেন বলে জানান তিনি।

অভিজিতের ভাষায়, একই পরিবার ও রক্তের সম্পর্কের মানুষ হয়েও তাদের জীবনযাপনে রয়েছে বড় ব্যবধান। তার বাবা পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হয়েছেন, তিনি নিজেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছেন; কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষের বাস্তব অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, তাদের পরিবারের উন্নতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি আগের মতোই রয়ে গেছে।

গ্রাম ও আদিবাসী শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নই আন্দোলনের প্রেরণা।

ছুটির সময়গুলো গ্রামেই কাটত অভিজিতের। সেখানকার মানুষের জীবনসংগ্রাম কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তাকে গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকার বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। সিজেপির প্রচার-আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পেছনেও এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।

রাজনীতিতে আসার আগে তার স্বপ্নও ছিল তুলনামূলক ছোট পরিসরের। একসময় পরিবারের সদস্যদের বলতেন, গ্রামের সরপঞ্চ বা পঞ্চায়েতপ্রধান হতে চান তিনি। কিন্তু তার এই ইচ্ছার কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা নীরব থাকতেন এবং তাকে গ্রামেই থেকে যাওয়ার পরামর্শ দিতেন।

গ্রেপ্তারের আশঙ্কা নিয়েই ফিরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

গত জুলাইয়ে যন্তরমন্তরে সিজেপির প্রথম বিক্ষোভে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেছিলেন অভিজিৎ। তখন থেকেই গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন তিনি।

এমনকি কারাগারে যেতে হতে পারে—এই ধারণা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র একটি ছোট ব্যাগ নিয়ে এসেছিলেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, জেলে গেলে তিনটি বড় ব্যাগের প্রয়োজন হবে না ভেবেছিলেন। বাকি ব্যাগগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রেই পড়ে আছে।

শনিবার সকালে দিল্লিগামী উড়োজাহাজের ভেতর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতেও তাঁকে পুলিশকে বলতে শোনা যায়, গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা নিয়েই তিনি দিল্লিতে এসেছেন এবং পুলিশ চাইলে তাকে আটক করতে পারে।

এদিকে, ছেলেকে আটকের পর তার বাবা ভগবান দীপকে প্রশ্ন তোলেন, কোন আইনে অভিজিৎকে আটক রাখা হয়েছে। তার মা অনিতাও ছেলের আন্দোলনের প্রতি পরিবারের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

দাদির মৃত্যুর খবর, পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক আন্দোলন ঘিরে আটকের ঘটনা—সব মিলিয়ে অভিজিৎ দীপকের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন বাস্তবতা নতুন করে সামনে এসেছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গায় মধুমতির ভাঙন রোধে ১৪ হাজার জিওব্যাগ ফেলা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


আলফাডাঙ্গায় মধুমতির ভাঙন রোধে ১৪ হাজার জিওব্যাগ ফেলা শুরু

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় নদীর ভাঙনপ্রবণ ১১০ মিটার অংশে ১৪ হাজার জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মধুমতি নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আটটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন নদীতীরবর্তী পরিবারগুলো। পাশাপাশি হুমকির মুখে রয়েছে আরও শত শত বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
নদীভাঙনে বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন করেন। বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলামিন মিয়া ও রবিউল ইসলামসহ অনেকে বলেন, জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগে আপাতত ভাঙনের তীব্রতা কমতে পারে। তবে এতে স্থায়ী সমাধান হবে না। নদীভাঙন থেকে বসতভিটা ও এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

তাঁরা বলেন, নদীভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। নতুন করে বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। তাই জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জরুরি এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মধুমতির অব্যাহত ভাঙন থেকে চরখোলাবাড়িয়াকে সুরক্ষিত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%