প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি নেই। উল্টো, ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে। ঘরে-বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি; দিন ও রাতের তাপমাত্রা মিলেমিশে একাকার হওয়ায় শরীর ঠান্ডা হওয়ার ফুসরত নেই। তীব্র গরমে চাতক পাখির মতো একটু বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকা ঢাকাবাসীসহ সারা দেশের মানুষের জন্য অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছেন আবহাওয়া অফিস। আগামীকাল শুক্রবার (৫ জুন) থেকেই সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে, যা ধীরে ধীরে তপ্ত আবহাওয়ার তীব্রতা কমিয়ে আনবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর এ তথ্য জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ৪৮টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি বছর এটা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে এতগুলো জেলার তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত মে মাসের শেষে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে, কিন্তু এবারের বর্ষার আসতে দেরি হওয়ায় গরমের তীব্রতা ও বিস্তৃতি বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর ব্যাখ্যা করেছেন, এখন জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ পর্যায় চলছে। মৌসুমি বায়ু আসার আগ পর্যন্ত এ সময়ে সবচেয়ে বেশি গরম থাকা স্বাভাবিক। বর্তমানে বাতাস দক্ষিণ দিক থেকে আসছে, তাই প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বা ময়েশ্চার রয়েছে। বাতাসে ময়েশ্চার বেশি থাকলে তা তাপ ধরে রাখে, ফলে চারপাশের বাতাস বেশি উত্তপ্ত হয়ে যায়। এ ছাড়া ময়েশ্চার বেশি থাকার কারণে শরীর থেকে ঘাম শুকাচ্ছে না, যা চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, শারীরিক অস্বস্তির আরেকটি বড় কারণ হলো দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত রাত ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাধারণত রাতের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির নিচে থাকলে মানুষ আরাম বোধ করে। কিন্তু এখন রাতে শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় গরম শুরু হয়ে যাচ্ছে, ফলে শরীর ঠান্ডা হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না।
স্বস্তির বৃষ্টি কবে?
আবহাওয়া অফিস আশা করছে, আগামী ৭ থেকে ১০ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং তখন তাপমাত্রা অনেকটা সহনশীল হবে। তবে তার আগে শুক্রবার (৫ জুন) থেকেই রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে অঞ্চলভেদে আবহাওয়ার কিছুটা তারতম্য হবে উল্লেখ করে এই আবহাওয়াবিদ বলেছেন, মৌসুমি বায়ু আসার আগে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির ফলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট) তাপমাত্রা দ্রুত কমতে পারে। তবে রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের মতো পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে কিছুটা সময় লাগবে, কারণ, ওইদিকে মৌসুমি বায়ু পৌঁছাতে একটু দেরি হয়। তবে আজ থেকেই বৃষ্টিপাত বাড়ানোর কারণে ধীরে ধীরে সারা দেশের তাপমাত্রা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন