প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আবারও কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা বলেছেন, ইরানের ওপর যে কোনো হামলার জবাব কেবল হামলার উৎসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অঞ্চলকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বোকামি না করার’ পরামর্শও দিয়েছেন। একই সঙ্গে, ওয়াশিংটনের চাপ ও নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। খবরটি আল জাজিরার আধারে প্রকাশিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি উল্লেখ করেছেন, শত্রুপক্ষের কোনো সম্ভাব্য হামলার জবাব শুধু পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরান সেখান থেকে হামলা চালানোর সব সামরিক ঘাঁটি এবং হামলার উৎসস্থলগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানবে।
এর আগে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও সতর্ক করে বলেছিল যে, দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে, এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
রেজায়ির দাবির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে বাজার বন্ধ থাকার দুই দিনের মধ্যেই ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়ে দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব। তিনি মন্তব্য করেছেন, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফর করা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন ধারণা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, ‘ইরানে হামলা হলে পুরো অঞ্চল ও এর স্থাপনাগুলোকে আমরা প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব। এমন বোকামি না করাই আপনার জন্য ভালো হবে।’
অন্যদিকে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ আরও কঠোর করবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি ও সমুদ্রপথও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও যুদ্ধংদেহী অবস্থান অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালির অবরোধ আরও জোরদার করা হবে এবং অন্যান্য সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
জোলঘাদর সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতির মূল্য দিতে হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মার্কিন ভোটারদের।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই, তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর পর পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রণালিটি বন্ধ রয়েছে। একসময় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হত। প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানির দামও বেড়েছে।
অন্যদিকে, গত মাসে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর ফলে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে যে জাহাজগুলো লোহিত সাগর ব্যবহার করছিল, সেগুলোর চলাচলও নতুন করে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গত জুন মাসে সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন