প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মান, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক এবং কৌশলগতভাবে স্থিতিশীল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মত হয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ তথ্য জানান শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর।
ওয়াং ই উল্লেখ করেন, শি যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ফলাফল হলো—দুই নেতা সম্মান, ন্যায্যতা ও পারস্পরিকতা সম্পর্কের ভিত্তিতে গঠনমূলক ও কৌশলগতভাবে স্থিতিশীল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছেন। তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
‘সম্মান’ শব্দটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওয়াং ই বলেন, এটি একে অপরের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা বোঝায়। পাশাপাশি, প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামাজিক ব্যবস্থা ও উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার অধিকার এবং অন্য দেশের মূল স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগকে সম্মান করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
‘ন্যায্যতা’ নীতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা করা এবং আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান করা। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যেখানে এক পক্ষের লাভ অন্য পক্ষের ক্ষতির কারণ হয়। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের একতরফাভাবে নিরঙ্কুশ সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করাও উচিত নয়।’
পারস্পরিকতা প্রসঙ্গে ওয়াং ই বলেন, এর অর্থ হলো—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সার্বভৌমত্বের দিক থেকে সমান। কোনো দেশই অন্য দেশের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। কোনো পক্ষই আধিপত্য বিস্তার বা জবরদস্তিমূলক আচরণ করবে না। তিনি আরো বলেন, ‘দুই দেশের উদ্বেগগুলো সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাও ভারসাম্যপূর্ণভাবে এগিয়ে নেওয়া দরকার।’
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ওয়াং ই এসব মন্তব্য করেন। তিনি জানান, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং বৃহত্তর বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে শি চিনপিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেছেন।
ওয়াং ই আরো জানান, ‘ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। এ সময় তারা তিনবার সরাসরি বৈঠক করেছেন এবং পাঁচবার ফোনে কথা বলেছেন।’
তার মতে, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ওয়াং ই এটিকে ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে মূল্যবান কৌশলগত সম্পদ’ বলে উল্লেখ করেন।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াং ই বলেন, শি চিনপিং মনে করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে হবে এবং মতপার্থক্য ও সমস্যার ক্ষেত্র কমাতে হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত চীনা কম্পানিগুলোর সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান করা। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি, স্থিতিশীল ও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করা প্রয়োজন।
ফেন্টানিল নিয়ে ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এর অপব্যবহারের জন্য চীন দায়ী নয়। তবে সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে চীন সব সময় প্রস্তুত। দুই নেতা দুই দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ তরুণ আমেরিকানকে শিক্ষা ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে চীনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ছাড়া ‘পিং পিং’ এবং ‘ফু শুয়াং’ নামে দুটি পান্ডা শিগগিরই আটলান্টায় যাবে।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা সম্মত হয়েছেন। শি জিনপিং শান্তি ও সংলাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। এআই নিয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, দুই দেশ নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগাবে এবং এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করবে।
ওয়াং ই বলেন, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষা এবং সামরিকবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর যৌথ দায়িত্ব রয়েছে।’ তিনি জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র যথাক্রমে এপেক অর্থনৈতিক নেতাদের বৈঠক এবং জি-২০ সম্মেলনের আয়োজন করবে। দুই নেতা এসব আয়োজনে একে অপরকে সহযোগিতা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, শি চিনপিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশ একে অপরের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে আরও সুবিধাজনক শুল্ক দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে নতুন সংলাপ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে, তাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপেক সম্মেলনের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন